শাহজালালের দানবাক্সে ডিসি সরওয়ারকে লেখা বেনামি চিঠি
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১১:১৯ PM

শাহজালালের দানবাক্সে ডিসি সরওয়ারকে লেখা বেনামি চিঠি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২/০৬/২০২৬ ০৮:০৫:২৮ PM

শাহজালালের দানবাক্সে ডিসি সরওয়ারকে লেখা বেনামি চিঠি


সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ডেগ খুলে ভেতরে পাওয়া গেল জেলাটি সদ্য প্রত্যাহারকৃত আলোচিত ডিসি মো. সরওয়ার আলমকে লেখা বেনামি একটি চিঠি। সেই চিঠিতে ডিসি সরওয়ারকে সমর্থনের পাশাপাশি মাজারের দানের টাকা তসরুপের বিষয়ে জানানো হয়েছে অভিযোগ।  

চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘ডিসি সাহেব, আসসালামু আলাইকুম। শাহজালাল মাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটসহ সারাদেশে এমনকি বিদেশে অবস্থানরত লোকজন আপনার শুধু প্রশংসাই করছেন না, শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ আপনার পক্ষেই আছেন।’

এরপরই অভিযোগ করে লেখা হয়েছে, ‘সবচেয়ে বড় লুটপাটকারী হচ্ছে দরগার কেরানি শামুন মাহমুদ খান। অর্ধেক টাকাই সে মেরে দেয়। সে কেরানি হয়েও বড়াই করে বলে, সে নাকি খাদিম। এ সবই মিথ্যা। পড়াশোনা করেছে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। এখন লম্বা লম্বা কথা বলে। দরগার জায়গায় বাড়ি করেছে, দোকানপাট করেছে। এ সমস্ত জায়গা উদ্ধার করা একান্ত প্রয়োজন। দয়া করে দেখবেন, তাকে নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। সেই মূলহোতা।’

চিঠির লেখক নিজের পরিচয় দিয়েছেন ডিসি সরওয়ার আলমের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে। চিঠিটিতে অভিযোগ নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মাজারের ভক্ত ও স্থানীয়দের মাঝে চলছে নানা কানাঘুষা।

সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে মাজারে সিলগালা করে রাখা তিন ডেগ (দানবাক্স) খুলে দেওয়া হয়। প্রকাশ্যেই শুরু হয় গত পাঁচ দিনে জমা হওয়া টাকা গণনার কাজ। শেষ হয় বিকেল সোয়া চারটার দিকে। 

মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিসিকে লেখা বেনামি চিঠিটি ছাড়াও তিনটি ডেগে মোট ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৯ টাকা পাওয়া গেছে। আরও পাওয়া গেছে সাত আনা স্বর্ণ, কিছু রূপা এবং কিছু রিয়াল পাওয়া গেছে দানবাক্সগুলোতে।    

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীবও এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

এদিন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যেই শাহজালারের (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়। এ নিয়ে মাজারের ভক্ত, দর্শনার্থী এবং স্থানীয়দের মনে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। 

জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গণনা কার্যক্রমে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দানের টাকাগুলো গুনেছেন। পুরো কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

গণনার সময় মাজার প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনার এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা না যাওয়ায় বিষয়টি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

বহুকাল ধরে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা দান করে আসছেন। তবে সে অর্থ প্রকাশ্যে গণনার নজির আগে ছিল না। এবারই প্রথম এমন ব্যতিক্রম আয়োজন করা হয়। যা অনন্য এক নজির সৃষ্টি করেছে।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর