মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কালাছড়া বনবিটে রাতের আঁধারে চলছে মূল্যবান বৃক্ষ কর্তন ও পাচারের মচ্ছব। একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয় বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে বনের সরকারি সম্পদ উজাড় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালাছড়া বনবিটের দুর্গম এলাকাগুলোকে টার্গেট করে প্রতিদিন শেষ রাতে সক্রিয় হয়ে উঠছে গাছ চোর চক্র। আকাশমণি, সেগুন, আগর ও গর্জনের মতো মূল্যবান গাছ কেটে মুহূর্তের মধ্যেই খণ্ড খণ্ড করে পিকআপ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানে করে পাচার করা হচ্ছে। পাহাড়ি দুর্গম রাস্তা ব্যবহার করে রাতের আঁধারে পাচার করায় অনেক সময় সাধারণ মানুষের নজরে আসে না। সম্প্রতি ভোরের দিকে আকাশমণি গাছ পাচারকালে স্থানীয়রা গাছসহ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয়রা জানান, রাতের বেলা বনে গাছ কাটার শব্দ পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে গাছভর্তি গাড়ি যেতে দেখেন তারা। বাধা দিতে গেলে চোর চক্রের নানামুখী হুমকির সম্মুখীন হতে হয়।
তারা অভিযোগ করে বলেন, বিট কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে গাছ পাচার বেড়েছে। বনের ভেতরের বড় বড় গাছগুলো কেটে ফেলায় পুরো এলাকা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম নাঈম বলেন, ‘গাছ পাচারের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং আমি যোগদানের পর গাছ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মামলা দিয়েছি। এগুলো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। এসব অপপ্রচার নিয়েই আামাদের চাকরি করতে হয়।’
শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে বা গাছ পাচারের সঙ্গে বনবিভাগের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করা হবে। এতে কেউ জড়িত পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেবে। তবে গাছ চুরি রোধে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে বনবিভাগ।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








