বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম জোরদার করতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে সব দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) গত সোমবার নগরীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
তবে এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সন্ধ্যার পরই বেচাকেনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় শুরু হয়। ফলে নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। অন্তত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখলে কিছুটা ব্যবসা হবে।
এদিকে সরকারের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিলেটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। এসএমপির গণবিজ্ঞপ্তিতে হোটেল-রেস্তোরাঁ (খাবারের দোকান), কাঁচা বাজার, ফার্মেসি ও জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকার কথা বলা হলেও কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এসএমপির গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বিলবোর্ডের আলোকসজ্জা এবং বিভিন্ন মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এসএমপির গণবিজ্ঞপ্তিতে ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার ও মদিনা মার্কেটসহ বেশ কিছু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হোটেল-রেস্তোরাঁ ছাড়াও দোকানপাট খোলা রয়েছে। এমনকি স্বপ্ন, আগোরা ও ইউনিমার্টসহ কিছু বড় বড় সুপারশপ লাইট কমিয়ে নিত্য পণ্য বিক্রি করছে।
অথচ সন্ধ্যা সাতটা বাজতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টেস্টি ট্রিট ও মিঠাইসহ কিছু কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে দোকান বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। যদিও এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীদের দাবি, গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিষেধাজ্ঞার বাহিরে রয়েছে।
টেস্টি ট্রিটের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার লিটন চন্দ্র দত্ত বলেন, ‘বিভিন্ন পয়েন্টে আমাদের আউটলেটে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ এসে বন্ধ করতে বলেছে। আমরা নির্দেশনা মোতাবেক বন্ধ করেছি। কিন্তু রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন পয়েন্টের অনেক দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে।’
মিঠাই-এর টেরিটরি সেলস ম্যানেজার মো. রাকিব হোসেইন বলেন, ‘সন্ধ্য সাতটা পর্যন্ত কোনোভাবেই ব্যবসা হবে না। সিলেটের অনেক ক্রেতা সন্ধ্যার পরে বাসা থেকে বের হন। তাছাড়া এখন দিন অনেক ছোট। সন্ধ্যার পরপরই সাতটা বেজে যায়। এই সময়টা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান খাবারের দোকান। তবুও পুলিশ ঈদের আগে আমার তিনজন সেলসম্যানকে ধরে নিয়ে গেছে। পরে আমরা থানা থেকে নিয়ে এসেছি। খাবার দোকান জেনেও আমাদের লোককে নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, চৌহাট্টা ও কুমারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সময়টিই তাদের প্রধান ব্যবসার সময়। অফিস শেষ করে অধিকাংশ ক্রেতা সন্ধ্যার পর কেনাকাটা করতে আসেন। সাতটার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হলে বিক্রি অনেকাংশে কমে যাবে।
জিন্দাবাজারের লতিফ সেন্টারের ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী আফজল হোসেন বলেন, ‘সারাদিন দোকানে তেমন ক্রেতা থাকে না। সন্ধ্যার পরই ভিড় বাড়ে। সাতটার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হলে ক্রেতার বড় একটি অংশ হারাতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রয়োজন, কিন্তু ব্যবসায়ীদের স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে। সময়সীমা অন্তত রাত আটটা বা নয়টা পর্যন্ত বাড়ানো হলে ক্ষতি কিছুটা কম হতো।’
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ব্যবসা আগেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসার সময় কমিয়ে দিলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এটা সবাইকে মানতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশের কিছু করার নেই।
টেস্টি ট্রিটসহ কয়েকটি খাবারের দোকান বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো খাবারের দোকানের আওতায় পড়ে না। তবে সুপারশপের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
আজকের সিলেট/এপি









