‘ভিডিও করা’ নিয়ে দফায় দফায় রণক্ষেত্র, আহত শতাধিক
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ PM

‘ভিডিও করা’ নিয়ে দফায় দফায় রণক্ষেত্র, আহত শতাধিক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩/০৬/২০২৬ ০৭:১২:৪২ PM

‘ভিডিও করা’ নিয়ে দফায় দফায় রণক্ষেত্র, আহত শতাধিক


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার খরকি গ্রামে একটি বিচার-সালিশের ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

মঙ্গলবার ও বুধবার টানা দুই দিনের এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ব্যাপক টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

এতে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে টাকা লেনদেনের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে খরকি গ্রামের কালাকরীর ছেলে আহমদ ও মুর্শেদ কামালের ছেলে তোফাজ্জল (৩৫)-এর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই বিরোধ মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে গ্রামে একটি সালিশ-বৈঠক বসে। বিচার চলাকালে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে তা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। মঙ্গলবার বিকেলের ওই সংঘর্ষেই প্রথম দফায় অন্তত ৫০ জন আহত হন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল থেকে দুই পক্ষ নতুন করে আবার দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপরতা শুরু করে। একপর্যায়ে দাঙ্গাবাজদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। আজকের নতুন সংঘর্ষে আরও প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

টানা দুই দিনের সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে পাঠানো হয়েছে।

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। গত মঙ্গলবার সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৩টি টিয়ারশেল ও ৭টি রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছিল। বুধবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও ১১টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টানা দুইদিনের এই সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর