সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এক যুবকের ওপর ফের হামলার অভিযোগ উঠেছে। বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ওই যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনার সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে ইসিজি মেশিনসহ বেশ কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামের মোক্তার চৌধুরীর বাঁশ কাটতে যান একই গ্রামের জীবু চৌধুরী। এ সময় জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি তাঁকে বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে জীবু চৌধুরী গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘর্ষের খবর পেয়ে জাহাঙ্গীরের ভাই আনহার সরদার তাঁর সহযোগীদের নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন জীবু চৌধুরীর ওপর তাঁরা আবারও হামলা চালান। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভাঙচুরে জরুরি বিভাগের একটি ইসিজি মেশিন, পানির কল, ওজন মাপার যন্ত্র, রোগীদের ব্যবহারের একাধিক বিছানা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দিরাই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. প্রশান্ত তালুকদার জানান, সাকিতপুরে সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তি জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিতে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এতে ইসিজি মেশিনসহ হাসপাতালের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে দিরাই থানা-পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জরুরি বিভাগে নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দিরাই থানা-পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








