শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন

চিংড়ি রপ্তানিতে ভারতের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে মানোন্নয়নের তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬/১০/২০২৬ ০৯:২৯:২৬ পূর্বাহ্ন

চিংড়ি রপ্তানিতে ভারতের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে মানোন্নয়নের তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর


আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির অবস্থান শক্তিশালী করতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা এবং উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, চিংড়ি চাষের জমির পরিমাণে ভারতকে ছাড়িয়ে থাকলেও রপ্তানিতে দেশটির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এই ব্যবধান কমাতে উৎপাদনশীলতা ও পণ্যের গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে চিংড়ি খাত নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), মন্টেরে বে অ্যাকোয়ারিয়াম (এমবিএ) এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সদস্য প্রতিষ্ঠান টোটালফুড প্রসেসিং (প্রা.) লিমিটেড যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে চিংড়ি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গত বছর বাংলাদেশের হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি ১৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে এ খাতে প্রবৃদ্ধির সুযোগ আরও বেশি।

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৫০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের চিংড়ি রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের চিংড়ি চাষের জমির পরিমাণ ভারতের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি হলেও রপ্তানিতে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি উৎপাদনশীলতা ও মান বাড়ানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন শুধু পণ্যের মান দেখেন না; উৎপাদনের সঙ্গে কারা যুক্ত, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ কেমন এবং উৎপাদন পরিবেশসম্মত উপায়ে হয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নেন।

এ কারণে কাগজভিত্তিক নথিপত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সমন্বিত ও স্বচ্ছ ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট সেল’ গঠন করেছে। শ্রম অধিকারসহ দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ বিষয়ে জাতীয় নীতিমালা এবং ট্রেসেবিলিটি কৌশল প্রণয়নের কাজও চলছে।

বাংলাদেশের চিংড়ির সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কথা উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিসহ (এফটিএ) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উপকূলীয় মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতিতে চিংড়ি শিল্পের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ খাতের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কৃষক, ডিপো কর্মী, প্রক্রিয়াজাত কারখানার শ্রমিক ও রপ্তানিকারক সবার ন্যায্য অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিশাল ক্রেয়জা। সমাপনী বক্তব্য দেন আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর