শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬/১০/২০২৬ ০৯:১৭:১৬ পূর্বাহ্ন

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫


ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবারের এ হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন।

প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের একটি সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। হামলার সময় সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্য আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের ভেতরে ছিলেন।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানান, নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী এবং সেখানে কর্মরত বেসামরিক কর্মীরাও রয়েছেন।

বৃহস্পতিবারের হামলাকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এডেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনি সরকারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই পোস্টে কাসেম বুহাইবেহ বলেন, “সরকার জনগণের মাঝে তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।”

প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং সরকারের অন্য সদস্যরা নিরাপদে রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আল-মাশিক প্রাসাদের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্সিয়াল সরকারের বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, প্রাসাদের আশপাশের এলাকায় বেসামরিক বাড়িঘর লক্ষ্য করেও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রাসাদটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, এডেনে ‘সৌদি যুদ্ধ অভিযানের সদর দপ্তর’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তাঁদের বাহিনী। সৌদি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন যেকোনো স্থান বা স্থাপনাকে তাঁরা ‘হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ মনে করেন বলেও জানান তিনি।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে হুথি যোদ্ধাদের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর এক বছরের মধ্যে, ২০১৫ সালে রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথি বাহিনী। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্দরাব্বুহ মনসুর হাদি। সানা দখলের পর তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে যান।

এরপর হুথি বাহিনীকে হটাতে ২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সৌদি-ইয়েমেন-সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক জোট। শুরু থেকেই জোটটির নেতৃত্বে ছিল সৌদি আরব। সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৫ সালে জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান শুরুর পর ইয়েমেন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ থাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদ সরকারের হাতে।

প্রেসিডেন্সিয়াল পরিষদ সরকারের রাজধানী দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী এডেন। আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদও এই শহরে অবস্থিত।

জুলাই মাসে হুথি গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হওয়ার পর প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে এটিই প্রথম হামলার ঘটনা।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর