মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন

৫৮ বছরেও কাটেনি সংকট, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে মহিষখলা মাদ্রাসার পাঠদান

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২/১০/২০২৬ ১১:১১:২১ পূর্বাহ্ন

৫৮ বছরেও কাটেনি সংকট, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে মহিষখলা মাদ্রাসার পাঠদান


প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছর পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত সংকট থেকে মুক্তি মেলেনি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা দাখিল মাদ্রাসার। জরাজীর্ণ ভবনের দেয়ালে ফাটল, ছাদের ঢালাই খসে পড়ছে বিভিন্ন স্থানে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বন্ধ রাখা হয়েছে দুটি শ্রেণিকক্ষ। অথচ ঝুঁকি নিয়েই অন্য কক্ষগুলোতে চলছে পাঠদান। শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের তিনটি ছোট টিনশেড ঘরেও গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৫৫০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও কক্ষসংকট দুই সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদ্রাসার পুরোনো একতলা ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। দেয়ালের পলেস্তারা উঠে গেছে কোথাও কোথাও। ছাদের ভেতরের ঢালাইয়ের অংশও খসে পড়ছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুটি শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে ব্যবহারযোগ্য কক্ষের সংখ্যা কমে গিয়ে সংকট আরও বেড়েছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, একতলা ভবনটি ১৯৯৫ সালে সরকারি ফ্যাসিলিটি বিভাগের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির বড় ধরনের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনের অন্য কক্ষগুলোতেই বাধ্য হয়ে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষক সংকটও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। বর্তমানে ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ছয়টি শিক্ষক পদ শূন্য। এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির একজন এবং চতুর্থ শ্রেণির চারজন কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক পদ খালি থাকায় নিয়মিত পাঠদান পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি সামাল দিতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয়েছে ছোট তিনটি টিনশেড ঘর। সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। বর্ষা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় এসব কক্ষে পাঠদান আরও কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে ছাদের ঢালাই খসে পড়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষা কার্যক্রম দুটিই ঝুঁকিতে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদ্রাসার সহকারী মৌলভি মো. জয়নাল আবেদীন শেখ বলেন, ৫৮ বছর ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসা এ মাদ্রাসার অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণ ও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাঠদানের মানও বাড়বে।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভবনটি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তার কারণে দুটি শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। জায়গার অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান বলেন, মাদ্রাসাটিতে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিকাদার এখনো কাজ শুরু না করায় সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, ভবনটি চারতলা ভিত্তির ওপর নির্মিত হলেও বর্তমানে একতলা পর্যন্ত রয়েছে। তবে ভবনটির ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে দ্বিতীয় তলায় একটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করেছে।

মো. কামরুজ্জামান আরও বলেন, মাদ্রাসা প্রকল্পের আওতায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। তবে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে মসজিদ ও এতিমখানা থাকায় পর্যাপ্ত জায়গার সংকট রয়েছে। এ কারণে নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের ক্ষেত্রেও জায়গা নিয়ে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর