ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ও খুচরা বিক্রেতাদের এখনই দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার নিউইয়র্কের সিরাকিউজে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেশি পরিমাণ তেল পরিবহন করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। এ সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘এখনই আপনাদের দাম কমানো শুরু করা উচিত।’
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। এর জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকে। এর প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় এবং পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের খরচেও চাপ তৈরি হয়। এতে বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো বাড়তি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে সংঘাত কিংবা জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বিশ্লেষকদের বিবেচনায়, যুদ্ধের পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ওপর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা নির্ভর করে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 








