শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, এজাহারভুক্ত তিন আসামি গ্রেফতার
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ PM

শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, এজাহারভুক্ত তিন আসামি গ্রেফতার

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১/১০/২০২৬ ০১:৪৮:১৪ PM

শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, এজাহারভুক্ত তিন আসামি গ্রেফতার


মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৪ বছরের এক গৃহপরিচারিকাকে সিএনজিচালিত রিকশায় তুলে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন সকালে কিশোরীকে আহত অবস্থায় শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ফেলে রেখে চলে যায় তারা। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবার করা মামলার পর এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকার দুলাল মিয়া (৩১), শহরের মিশন রোড এলাকার মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬) এবং সোনার বাংলা রোড এলাকার আল আমিন ইসলাম (২০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোডের একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ শেষ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় ওই কিশোরী। কিছুদূর যাওয়ার পর সিএনজিচালিত রিকশায় করে এসে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে। পরে জোরপূর্বক তাকে রিকশায় তুলে নেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে কিশোরীকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকায় দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর বাবা অভিযোগ করেন, ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত সেখানে তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে কিশোরীকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সে সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৯(৩) ধারায় মামলা করেন। মামলার নম্বর ৪১/২৭৭।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন মামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আবদুর রাজ্জাককে। বুধবার অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর