ধোপাজানে বালু লুট ঠেকাতে সিসি ক্যামেরার নজরদারি, তবু সক্রিয় চক্র
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ PM

ধোপাজানে বালু লুট ঠেকাতে সিসি ক্যামেরার নজরদারি, তবু সক্রিয় চক্র

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৯/২০২৬ ০৫:২৪:৪৪ PM

ধোপাজানে বালু লুট ঠেকাতে সিসি ক্যামেরার নজরদারি, তবু সক্রিয় চক্র


সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদীর বালু-পাথর মহালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন ঠেকাতে পুলিশ চৌকির পাশাপাশি সিসি ক্যামেরায় নজরদারি শুরু করেছে। পুলিশের দাবি, বালু-পাথর মহালে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে এ ধরনের নজরদারি দেশে প্রথম। ক্যামেরা স্থাপনের পর নদীপথে আগের মতো বড় পরিসরে বালু লুটের সুযোগ কমেছে। তবে চক্রটি এখন গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে ছোট যানবাহনে বালু সরানোর চেষ্টা করছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শেষ সীমানায় ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ডলুরা চলতি নদী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধোপাজানে এসে প্রবেশ করেছে। জেলার একমাত্র বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশ রক্ষায় ২০১৮ সালে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন আদালত।

দীর্ঘদিন উত্তোলন বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইজারাবিহীন এই বালুমহালে শুরু হয় ব্যাপক লুটপাট। কয়েক দফায় চলা ওই লুটে সরকার কয়েকশ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে।

তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন তৎপর হলেও তৎকালীন পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনকে বিভিন্ন অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে বালু উত্তোলন আবার বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্তে গেল বছরের অক্টোবর মাসে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ধোপাজান নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ)। মাত্র এক কোটি টাকা রাজস্বের বিপরীতে ১ কোটি ২১ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি পায় সংস্থাটি।

এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ও বোমা মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে নদীর তীরের বসতভিটা, ফসলি জমি, বাঁধ, কবরস্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা আন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু করলে লিমপেডের বালু উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়।

তবে রাতের বেলায় ড্রেজার দিয়ে বালু সরানোর অভিযোগ বন্ধ হয়নি। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়। ধোপাজান নদীর মুখে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বালু লুট।

সাম্প্রতিক সময়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার উদ্যোগে সেই চেকপোস্টের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। নদীর মুখে বসানো ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের এই উদ্যোগের পর অবৈধভাবে নৌকায় বালু পরিবহনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেড়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

নদীর পাড়ের বাদেরটেক গ্রামের আবু সাঈদ বলেন, আগে রাতের আঁধারে অনেকে বালু চুরি করে নিয়ে যেতেন। এ কারণেই পুলিশ ক্যাম্পে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এখন কেউ আগের মতো সাহস করে যেতে পারেন না। পুলিশ ধরলে নৌকাসহ থানায় নিয়ে যায়।

একই গ্রামের মহিনুর মিয়ার ভাষ্য, আগে চুপচাপ ‘ম্যানেজ’ করে নৌকায় বালু নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। সিসি ক্যামেরা বসানোর পর সেই সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ম্যানেজ করা এবং ম্যানেজ হওয়া দুটিই বন্ধ হয়েছে।’

গ্রামের এক তরুণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখনো মসজিদ, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কথা বলে ১০ হাজার বালুর অনুমতিপত্র নিয়ে এক লাখ পরিমাণ বালু নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

স্থানীয় শ্রমিকদের দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি বৈধভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় শ্রমিক সবুজ মিয়া বলেন, নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লুটেরা চক্র হাজার হাজার নৌকায় করে অবৈধভাবে বালু নিয়ে গে

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর