শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নয়, দেশে ফিরলে নিরাপত্তা চায় ভারত
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ PM

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নয়, দেশে ফিরলে নিরাপত্তা চায় ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯/০৯/২০২৬ ০৮:৩৮:২৭ AM

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নয়, দেশে ফিরলে নিরাপত্তা চায় ভারত


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ঢাকাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই এই মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরে গ্রেফতার হলে তাঁর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার অনুরোধও জানিয়েছে ভারত।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক মাস আগে ভারতের গোয়েন্দা বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। ওই সফরে বাংলাদেশের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

বৈঠকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা অনুরোধ নিয়েও আলোচনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আনন্দবাজারের দাবি, বৈঠকে ভারতীয় গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের জানায়, শেখ হাসিনাকে এখন বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের কোনো পরিকল্পনা নেই। তাঁকে কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তর না করার বিষয়ে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ভারতের এই অবস্থানের সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের আবেদন বিবেচনার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং সেই অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে হস্তান্তরের বদলে আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়া ও তার পরিণতিকেও বিবেচনায় নেওয়া হয় এমন অবস্থানের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনার নিজের দেশে ফেরার ইচ্ছা নিয়েও প্রতিবেদনে নতুন তথ্য দেওয়া হয়েছে। আনন্দবাজারের দাবি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা শেখ হাসিনা নিজেই প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি ভারত সরকারও জানে।

তবে তিনি দেশে ফিরলে তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের ‘অসম্মানজনক আচরণ’ করা না হয়, সে বিষয়েও ঢাকাকে সতর্ক করেছে ভারতীয় প্রতিনিধিদল। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার পর গ্রেফতার হলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ, দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনা আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলেও তাঁর নিরাপত্তা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার বিষয়ে ভারত গুরুত্ব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে শেখ হাসিনা কীভাবে বা কোন পথে বাংলাদেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেনি বলে ধারণা করছে ভারতীয় গোয়েন্দারা।

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার কয়েকজন সন্দেহভাজন সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দারা উদ্বিগ্ন। এমন ছয়জনের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তাঁদের মধ্যে চারজন অতীতে কাশ্মীরে সক্রিয় ছিলেন বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।

সন্দেহভাজন এসব ব্যক্তি কী কারণে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং তাঁদের কর্মকাণ্ড কী তা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডের উদাহরণও দিয়েছে আনন্দবাজার। সাবেক কোনো রাজনৈতিক নেতা দেশে ফেরার পর নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন—এমন একটি উদাহরণ হিসেবেই বেনজির ভুট্টোর ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটেই বেনজির ভুট্টোর প্রসঙ্গটি সামনে আনা হয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর