শাহপরাণ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন হত্যার পেছনে পরকীয়া প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ ও গালমন্দের জেরে ক্ষোভ কাজ করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জালাল আহমদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন স্থানীয়রা। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সন্দেহভাজন হিসেবে জালাল আহমদকে আটক করেন এলাকাবাসী। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই ভিডিওতে জালাল আহমদকে বলতে শোনা যায়, স্থানীয় এক দর্জির স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ বিষয় নিয়ে শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহাব উদ্দিন তাকে গালিগালাজ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যা করেন বলে জালাল জানান।
পরে জালালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কিরিচ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জালাল আহমদের বাড়ি সুনামগঞ্জে। তিনি শাহপরাণ এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় শাহাব উদ্দিন হত্যা মামলায় জালাল আহমদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।
শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
হত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, আসামি আদালতে জবানবন্দি দিলে বিষয়টি জানা যাবে। তার আগে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে বলেও জানান তিনি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, রবিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন ইসলামাবাদ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত শাহাব উদ্দিন (৬৫) বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা করতেন এবং পরিবার নিয়ে ইসলামাবাদ এলাকায় নিজ বাসায় বসবাস করতেন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









