বস্তাভর্তি এইচএসসির উত্তরপত্রসহ চায়ের দোকানে ধরা পড়লেন শিক্ষক
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৮ AM

বস্তাভর্তি এইচএসসির উত্তরপত্রসহ চায়ের দোকানে ধরা পড়লেন শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২/০৮/২০২৬ ১০:৪৩:৪৫ AM

বস্তাভর্তি এইচএসসির উত্তরপত্রসহ চায়ের দোকানে ধরা পড়লেন শিক্ষক


সিলেটের একটি চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে ধূমপান ও আড্ডার ছলে উচ্চ-মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নকালে প্রায় এক বস্তা খাতা জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকান থেকে এসব উত্তরপত্র জব্দ করেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

অনিয়মে জড়িত ওই শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের প্রভাষক এবং শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রভাষক ইকবাল তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। সঙ্গে থাকা এক বস্তা খাতা থেকে বের করে তার অন্য দুই বন্ধুও উত্তরপত্র কাটছিলেন। তাদের সঙ্গে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সহ-সভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে চার জন মিলে সিগারেট ও চা পানের পাশাপাশি এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন বলে জানান আরেক প্রত্যক্ষদর্শী। লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণী পরীক্ষার খাতা কীভাবে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মতান্ত্রিক পরিবেশে পরীক্ষকের বাইরে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে এলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

খাতা জব্দের সময় শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন কৈফিয়ত চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল বলেন, তাড়াহুড়ো থাকায় বন্ধুদের নিয়ে খাতা না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।

তবে সঙ্গে থাকা শাবিপ্রবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা দাবি করেন, আমি কোনও খাতা মূল্যায়নে অংশ নিইনি। ইকবাল আমার ব্যাচমেট ও বন্ধু, তাই শুধু সঙ্গে ছিলাম।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। পরবর্তী সময়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় জালালাবাদ থানায় যান।

জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব জানান, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। 

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর