ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় হামলা
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৩২ AM

ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯/০৭/২০২৬ ১০:৩০:৫২ AM

ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় হামলা


হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের হরমোজগান প্রদেশের কুহেসতাক বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের অন্তর্বর্তী চুক্তি (এমওইউ) ‘শেষ’ বলে মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার ইরানে নতুন করে একাধিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর তীরবর্তী বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস, দক্ষিণ উপকূলীয় শহর সিরিক এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুশেহরেই রয়েছে ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

চাবাহার এলাকায় বিস্ফোরণের একটি ছবি শেয়ার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘গতকাল ইরানের জাহাজে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এটি করা হয়েছে। যদি আবার এমন কিছু ঘটে, তাহলে এর জবাব আরও ভয়াবহ হবে।’

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ‘সর্বাধিনায়কের নির্দেশে সেন্টকম বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি ইরানের হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে অতিরিক্ত হামলা শুরু করেছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অবাধে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর সাম্প্রতিক অযৌক্তিক আগ্রাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে।’

রয়টার্স এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, বুধবার রাতের হামলা মঙ্গলবারের হামলার তুলনায় আরও বড় পরিসরের হওয়ার কথা ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, আবু মুসা দ্বীপেও নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবি করা তিনটি ছোট দ্বীপের একটি আবু মুসা, যা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অন্যদিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বুশেহর প্রদেশে হামলা হলেও বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো ক্ষতি হয়নি।

এদিকে মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ট্রাম্পের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে এই বেপরোয়া যুদ্ধ আবার শুরু করলে আমেরিকা আরও শক্তিশালী হবে না। এতে আরও প্রাণহানি ঘটবে এবং করদাতাদের আরও অর্থ অপচয় হবে।’

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘মিথ্যার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়ানোর পর ট্রাম্প এক মাসও না পেরোতেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন।’

এর আগে মঙ্গলবার ওমান উপকূলের কাছে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও বন্দর এলাকায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এরও আগে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্ভবত আজ রাতেই (বুধবার) ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা চালাবে।’ তবে তিনি একই সঙ্গে দাবি করেন, এই হামলা ‘দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান’ হবে না।

ট্রাম্প বলেন, ‘যা হওয়ার, খুব দ্রুতই হবে’। তবে তিনি এটিও ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী হয়তো ‘কাজটি একেবারে শেষ করে দিতে পারে’।

সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা অব্যাহত রেখেছে।

তার ভাষায়, ‘তারা খুবই খারাপ আচরণ করছে’। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান জাহাজগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদের রয়েছে।

এদিকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার অন্যতম প্রধান আলোচক এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এক্সে লিখেছেন, ‘ভয়ভীতি দেখানো ও জোরজবরদস্তির যুগ শেষ। এতে কোনো লাভ হবে না। আমরা মাথা নত করব না।’

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর