হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার পর ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৮ PM

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার পর ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮/০৭/২০২৬ ০৮:৫০:৫৪ AM

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার পর ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান


হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথে বেসামরিক নাবিক বহনকারী জাহাজে হামলার ‘কঠোর জবাব’ দিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় তারা একটি ‘শক্তিশালী সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তবে ইরান এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থী।তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় ও দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, সোমবার ও মঙ্গলবারের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা হামলাগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর জন্য ইরানকে পরিণতি ভোগ করতে হবে। কাতার ও সৌদি আরবও পৃথক বিবৃতিতে ট্যাংকারে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দুই দেশ দাবি করেছে, তাদের পতাকাবাহী একটি করে ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি বা এর আশপাশে হামলার শিকার হয়েছে এবং এ ঘটনায় তারা ইরানকে দায়ী করছে।

উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ওপর আরোপিত তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞায় দেওয়া সাময়িক ছাড় প্রত্যাহার করে নেয়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানকে সীমিত পরিসরে তেল ও জ্বালানি পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৭ জুলাই পর্যন্ত আগের অনুমোদনের আওতায় থাকা লেনদেনগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তকে সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অসৎ উদ্দেশ্য, অসংগত আচরণ ও অবিশ্বস্ততার’ প্রমাণ।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর