মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রবেশপত্র না পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েন একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ শিক্ষার্থী।
কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগের মধ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ইউএনও’র হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তারা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের ৯ শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিয়ে ফরম পূরণ করেন। তবে পরীক্ষা ঘনিয়ে এলেও তারা প্রবেশপত্র পাননি। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদেরকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়, আজ-কাল করে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে। সর্বশেষ পরীক্ষার আগের দিনও তারা জানতে পারেন, প্রবেশপত্র এখনও আসেনি।
ভুক্তভোগীরা হলেন, মানবিক বিভাগের শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীল এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তারসহ মোট ৯ জন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রথম পরীক্ষার দিন সকালে প্রবেশপত্র ছাড়া শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে গেলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাদের আটকে দেন। এতে শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার আশঙ্কায় হইচই শুরু হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন এবং মোবাইল ফোনে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, রমজান মাসেই আমরা ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিয়েছি। বারবার যোগাযোগ করেও প্রবেশপত্র পাইনি। পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে আমরা পরীক্ষা দিতে পারি।
আরেক শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী শীল বলেন, সাড়ে ১১টার দিকে আমরা পরীক্ষায় বসতে পারি। কিন্তু আমাদের মাত্র ২০ মিনিট সময় বাড়ানো হয়েছে। সময়ের অভাবে ঠিকমতো লিখতে পারিনি। এর দায় কে নেবে?
দীপা কাহার বলেন, কয়েক মাস আগে টাকা জমা দিয়েছি। প্রবেশপত্রের জন্য বহুবার কলেজে গিয়েছি। শুধু আশ্বাসই পেয়েছি। আজও না পাওয়ায় আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।
এদিকে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অনিত দেবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল বলেন, যে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আসেনি, বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। পরে জেনেছি তারা কম্পিউটার অপারেটরের কাছে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিয়েছিল। ইউএনও ও বোর্ডের সহযোগিতায় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে।
দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কম্পিউটার অপারেটরের দায় রয়েছে, পাশাপাশি আমি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে দায় এড়াতে পারি না। দ্রুত তাদের প্রবেশপত্র পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে এসে বিষয়টি তদন্ত করি। অসচেতনতার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আসেনি বলে জানা গেছে। বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
সংবাদদাতা 








