অবশেষে ঘুম ভাঙলো কুম্ভকর্ণের। হাজিপুরে ধ্বংসলীলার পর অভিযানে নামলো উপজেলা প্রশাসন। টাস্কফোর্সের অভিযানকালে ২০টি লিস্টার মেশিন ও ১৫ লাখ টাকার পাইপ ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি ইজারার নিয়ম লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলনের দায়ে ২ জনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মো. জাকারিয়া হোসেন। অভিযানে সহায়তা করে পুলিশ ও বিজিবি।
এসিল্যাণ্ড মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, আজকে সবচেয়ে বড় অভিযান হয়েছে। এরআগেও আরো দু’টি অভিযান পরিচালনা করেছি। মঙ্গলবারের অভিযানে ২০ টি লিস্টার মেশিন ধ্বংস করি। বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ১৫ লাখ টাকা মূল্যের পাইপ ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ২ জন শ্রমিককে জরিমানা করি। একজনের নাম আবুল কাশেম, অপরজন তরিকুল ইসলাম। তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা করে একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তারা ইজারা লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলন করছিল। এই আইনে তাদের জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে এসেছেন, ইজারার বাইরে কোনো বালু উত্তোলন করা যাবে না।
ইজারা আইন লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হলের দেরিতে অভিযানে নামার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সপ্তাহ দিন আগে এসে যোগদান করেছি। এ নিয়ে ৩ বার অভিযানে নেমেছি।
প্রায় সহস্রাধিক হাজার লিস্টার ও বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন করা হলেও অভিযানে এতো অল্প সংখ্যক লিস্টার মেশিন ধ্বংসের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে অভিযানকালে অনেকে পালিয়ে গেছে। কি পরিমাণ ড্রেজার, লিস্টার ও বোমা মেশিন ছিল তা অনুমান করা যাচ্ছে না। তবে ইজারা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইজারায় শর্ত রয়েছে শব্দ দূষনকারী কোনো মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। সেখানে তারা এই শর্ত মানেনি। হাজিপুরসহ ৪টি স্থানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে ইজারাকৃত এরিয়া বলতে না পারলেও ইজারাকৃত এলাকায় লাল পতাকা টানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মানুষজন টাকা পেয়ে বসতি থেকেও বালু উত্তোলন করতে দিচ্ছেন। যে কারণে সমতল ভূমি ধসিয়ে বালু তুললেও কেউ প্রতিবাদ করে না। এ বিষয়ে এসিল্যাণ্ড বলেন, টাকা দিয়ে বালু উত্তোলন করে দিলে প্রতিবাদ না করতেও পারে। বিষয়টি এরকম হতে পারে। তবে তার জানা নেই।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, বালু মহালে ইজারা দিয়েছে প্রশাসন। এখানে হস্তক্ষেপ করলে উপজেলা প্রশাসন করবে। আমার কোনো কিছু করার নেই। যদি উপজেলা প্রশাসন অভিযান করে এবং পুলিশ চায়, তখন পর্যাপ্ত সংখ্যক ফোর্স দেবো।তবে মঙ্গলবার অভিযান টাস্কফোর্সের অভিযানে ২০টি লিস্টার মেশিন ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ১৫ লাখ টাকা মূল্যের পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। সেই সাথে দুই শ্রমিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি চোরাচালান ও মাদক সামাল দিতে গিয়ে সময় চলে যায়। বালু উত্তোলনে নিয়ম লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা, সেটা দেখিনি, এটা প্রশাসন দেখবে। যে কারণে তিনি স্বেচ্ছায় থানা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য গত ১০ জুন দরখাস্ত করেছেন জানিয়ে বলেন, দরখাস্ত মঞ্জুর হয়েছে গত ১৮ তারিখে। এখন সিএমপিতে বদলীর আদেশ হয়েছে।
চলতি বছর পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাজিপুর বালু মহালের ইজারা পায় মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাফিজ আব্দুল্লাহ। ইজারার শর্ত অনুযায়ী লাটি, লাবু, কালিজুরি ও দক্ষিণ প্রতাপুর মৌজা থেকে শুধুমাত্র সনাতন (ম্যানুয়াল) পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের কথা। কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করে হাজার হাজার ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ২৪ ঘণ্টা বালু উত্তোলন করা হয়। হাজিপুর ছাড়িয়ে ইজারা বহির্ভূত উত্তর প্রতাপপুর, লুনি ও আমবাড়িতেও খাবলে খাচ্ছে সিন্ডিকেট। প্রায় ২৬ কোটি টাকা ইজারা দেওয়া বালু মহালে শতকোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতিতে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার ফসলী জমি ও খেলার মাঠ খাবলে খেয়েছে বালুখেকোরা। নিরীহ মানুষকে সৎ সামান্য মূল্য দিয়ে ফসলী জমি ও বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে বালু তুলে পিয়ান নদীগর্ভে বিলীন করা হচ্ছে সমতল এলাকা।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি 








