সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হলে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য চাল ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাউধরন গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামের তালিকা প্রস্তুত করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি সহায়তা বিতরণের সময় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে কৃষির সঙ্গে জড়িত নন-এমন অনেকের মধ্যে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন।
বাউধরন গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে ইউপি সদস্য আমাদের কাছ থেকে নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়েছেন। কিন্তু বিতরণের সময় আমাদের বাদ দিয়ে যারা কৃষক নন, তাদের মধ্যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ বছর আমি ৮ কেদার জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম। অতিবৃষ্টিতে সব ফসল নষ্ট হয়ে এখন কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।’
আরেক কৃষক লাল মিয়া বলেন, ‘আমরা হাওরের মানুষ। বোরো ফসলই আমাদের সারা বছরের জীবিকার প্রধান ভরসা। অতিবর্ষণে ফসল হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সরকারি সহায়তার জন্য আমাদের নাম নেওয়া হলেও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তালিকায় স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে।’
একই অভিযোগ করেছেন গ্রামের কৃষক তুরক মিয়া, সুফি মিয়া, মহিম উদ্দিন, আব্দুল গনিসহ আরও অনেকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সালাউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যেই সরকারি বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








