সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের নাচনি চন্ডীপুর গ্রামের কৃষক গোলাম রব্বানীর একমাত্র সম্বল মাছ ধরার নৌকাটি চুরি হয়ে হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে তার পরিবার। কৃষিকাজ ও মাছ ধরা-এই দুইয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারটি এখন জীবিকার অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।
শনিবার গোলাম রব্বানী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১১ কেয়ার জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ৫ কেয়ার জমির ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে বাকি ফসলের বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া ঋণের চাপে তার ৮ কেয়ার জমি বন্ধক রাখতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফসলের ক্ষতি সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছিলাম। এর মধ্যে পরিবারের শেষ ভরসা মাছ ধরার নৌকাটিও চুরি হয়ে গেছে। নৌকায় মাছ ধরে দুই ভাইয়ের সংসার কোনোভাবে চালানোর আশা ছিল। এখন কীভাবে পরিবার নিয়ে চলব, বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাম রব্বানীর পরিবারে মোট ১১ জন সদস্য রয়েছেন। দুই ভাইয়ের যৌথ পরিবারে বৃদ্ধ মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তাদের সংসার। হাওরাঞ্চলের অন্যান্য পরিবারের মতো কৃষিকাজ ও মাছ ধরার ওপরই নির্ভর করে তাদের জীবিকা।
এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার পর মাছ ধরা ছিল পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু নৌকা চুরির ঘটনায় সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পরিবারটি বর্তমানে মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাওরাঞ্চলে নৌকা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং অনেক পরিবারের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উপকরণ। তাই কৃষক গোলাম রব্বানীর পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে নৌকাটি উদ্ধারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
সংবাদদাতা 








