রেফারি শেষ বাঁশি বাজালেন, স্পেন জিতল এবং চ্যাম্পিয়ন হলো—স্বপ্ন ইয়ামালের
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০২:১৩ AM

রেফারি শেষ বাঁশি বাজালেন, স্পেন জিতল এবং চ্যাম্পিয়ন হলো—স্বপ্ন ইয়ামালের

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০/০৫/২০২৬ ০৮:৪৬:৪৪ PM

রেফারি শেষ বাঁশি বাজালেন, স্পেন জিতল এবং চ্যাম্পিয়ন হলো—স্বপ্ন ইয়ামালের


লিওনেল মেসির উত্তরসূরি বলা হচ্ছে লামিনে ইয়ামালকে। তার কাঁধে চড়ে স্পেন ইতোমধ্যে জিতেছে ইউরো। ফিরে আসছে ২০০৮ সালে তাদের ইউরোপিয়ান সাফল্যের স্মৃতি। প্রথমবার ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দুই বছর পর বিশ্বজয় করেছিল লা রোজারা। এবারও কি সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে? ইয়ামাল তার প্রথম বিশ্বকাপে সেই স্বপ্ন দেখতে শঙ্কিত নয়।

১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ইনজুরিতে বার্সেলোনার হয়ে মৌসুমের শেষ অংশে খেলতে পারেননি। বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের প্রথম ম্যাচে দেখা যাবে না তাকে। তবে সৌদি আরব ও উরুগুয়ের বিপক্ষে গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচে খেলবেন তিনি। সবকিছু পরিকল্পনা মতো ঠিক পথে এগোলে ১৯তম জন্মদিন পালন করে সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন ইয়ামাল। তারপর সেই ট্রফিও উঁচিয়ে ধরতে চান, যার স্বপ্ন শিশুকাল থেকে দেখছেন।

শৈশব থেকে যে বিশ্বকাপের সঙ্গে টিভিতে পরিচয়, এবার তারই অংশ হতে পেরে রোমাঞ্চিত ইয়ামাল, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন থেকে এই টুর্নামেন্ট সবাইকে দেখতে দেখেছি। এটাই একে বিশেষ করে তুলেছে। আপনি যদি ফুটবল নাও খেলেন, তখন যদি দেখেন আপনার দেশ খেলছে, দেখবেন হুট করে রাস্তায় রাস্তায় মানুষ, একসঙ্গে খেলা দেখছে। এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য। আমার লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, যখন ভাবছি যে আমি এটার অংশ।’

সবসময় হাসিমুখে খেলার ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বিষয়টি নিয়ে ইয়ামালের ব্যাখ্যা, ‘আমার খেলা নির্ভর করে সৃজনশীলতার ওপর। যখন আমি উপভোগ করি না, তখন সমস্যা হয়। সবকিছু সাদামাটা লাগে, কম প্রেরণা পাই। কিন্তু যখন আমি খুশি থাকি, যেমনটা ছিলাম ইউরোতে, সবকিছু ঠিকঠাক হয়, আমি স্বাধীনভাবে খেলি।’

ইউরো ও নেশন্স লিগ জয়ের পর ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপে খেলবে স্পেন। স্বাভাবিকভাবে চাপ থাকার কথা। এনিয়ে ইয়ামাল বললেন, ‘এটা মজার, কারণ ইউরোতে অন্য ব্যাপার ছিল। কেউই আমাদের নিয়ে ভাবেনি যে চ্যাম্পিয়ন হতে পারব। সেটাই কাজে দিয়েছে। ফেভারিট বিষয়টা মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে অর্থহীন হয়ে যায়। এটা আপনাকে এগিয়েও রাখবে না আবার গোলও করতে সাহায্য করবে না। ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে। আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইংল্যান্ডসহ অনেক শক্তিশালী দল আছে এবং সবাই বিশ্বকাপে সেরা অবস্থানে আছে। আমাদের জন্য আসল ব্যাপার হলো স্পেনের জন্য সবটা দিতে হবে এবং আমাদের খেলার ধরনের ওপর ভরসা রাখতে হবে, কারণ আমার মতে, আমরা সেরা ফুটবল খেলি।’

মেসি, রোনালদো, এমবাপে ও নেইমারের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনা করা হয় ইয়ামালকে। নিজেকে কোন চোখে দেখেন তিনি, ‘আমার লক্ষ্য তাদের সঙ্গে তুলনীয় হওয়া নয়, তাদের পাশে থাকাই যথেষ্ট। পরে এই প্রশ্ন কাউকে করলে আমার নাম তাদের সঙ্গে থাকবে।’

আসন্ন বিশ্বকাপে গোল করলে স্পেনের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হবেন ইয়ামাল। তারই সতীর্থ গাভিকে পেছনে ফেলবেন তিনি। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ইয়ামাল বললেন, ‘ইউরো থেকে গাভি আমার সঙ্গে মজা করে বলছিল এই রেকর্ড তার কাছ থেকে আমি নিতে পারব না। কিন্তু আমাকে আরও ভালো কিছু করতে হবে, বিশ্বকাপে আমি স্পেনের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ হ্যাটট্রিক গোলদাতা হতে চাই। দ্বিতীয় গোল করলে হয়তো গাভি একটু ভড়কে যাবে। কিন্তু আমি তিনটিই করতে চাই।’

স্পেন সব বাধা পেরোতে পারবে কি না প্রশ্নে তিনি বললেন, ‘আমি আশা করি সেটা হবে। সেটা হবে আমার জন্য স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।’ কেমন স্বপ্ন দেখেন তিনি, ‘রেফারি শেষ বাঁশি বাজাল, আমরা জিতলাম। আমি জানি না কত গোলে, কিন্তু আমরা চ্যাম্পিয়ন। তারপর স্পেনে ফিরে ভক্তদের সঙ্গে উদযাপন করছি। সেটা হবে বিশেষ।’

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর