শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত ধুলাবালির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ধুলাবালির কারণে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক চলাফেরা ও আড্ডা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ১ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি ধুলাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কেন্দ্রের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার মো. হাবিবুল ইসলাম বলছেন, ক্যাম্পাসের ধুলাবালি ও নির্মাণকাজের শব্দের কারণে মেডিকেলে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৬০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন, যার মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ জনই সর্দি, কাশি ও হাঁপানিজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ক্যাম্পাসে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় ১৭টি উন্নয়ন কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের বেশির ভাগই ৫ থেকে ১০ তলা ভবন নির্মাণসংক্রান্ত। নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ভারী যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক থেকে মুজতবা আলী হল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও রাস্তা বসে গেছে। চলন্ত গাড়ির ধুলা এবং জমে থাকা ধুলাবালির কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চললেও তার নেতিবাচক প্রভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ধুলোবালির কারণে ক্যাম্পাস এখন চলাফেরার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখবেন বলেই দায় সারছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মেডিকেল কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দীপেন্দু দাস বলছিলেন, “আমার অষ্টম শ্রেণি থেকে হাঁপানি। চিকিৎসা নেওয়াতে তা নিয়ন্ত্রণে ছিল।
“কিন্তু এখন ক্যাম্পাসে প্রচুর ধুলবালির কারণে এ সমস্যা বেড়ে গেছে বলে আমার মনে হচ্ছে।”
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সজীব রায় বলেন, “কিলো রোডে (প্রধান ফটক থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত) আগে সময়ে-অসময়ে হাঁটতাম। এখন পরিবেশ খারাপ হওয়ার কারণে একান্ত হাঁটার প্রয়োজন হলে ওয়াকওয়েতে (কিলো রোডের পাশে) হাঁটি।
“কিলো রোড দিয়ে বাস যাওয়ার সময় যে একটু মুক্ত বাতাস অনুভব করব, সে সুযোগটা নেই। ক্যাম্পাস থেকে বাস ছাড়ার সময় কিলো রোডে যে পরিমাণ ধুলাবালি উড়ে এতে করে বাসের জানালাগুলো বন্ধ করে দিতে হয়।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী টগর পাল বলেন, “আমি টিলারগাঁও থাকি। ক্যাম্পাস থেকে ওই এলাকা পর্যন্ত যাওয়ার পথে তিনটা বড় ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। ফলে পুরো রাস্তাজুড়ে ধুলাবালিতে স্বস্তিতে চলাফেরা করা দায়।
“এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উল্লেখযোগ্য কোনো সমাধান দেখেনি।”
ধুলার কারণে কী কী শারীরিক সমস্যা হতে পারে জানতে চাইলে মেডিকেল অফিসার মো. মুশফিক রহমান বলেন, “অনেকের বারবার হাঁচি হয়, নাক চুলকায়, নাক দিয়ে পানি পড়ে। কারও কাশি শুরু হয়, কারও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। যাদের আগে থেকেই হাঁপানি আছে, তাদের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
“চোখে ধুলা গেলে চোখ লাল হয়ে যায়, জ্বালা করে, চুলকায়, পানি পড়ে। ত্বকে ধুলা লাগলে চুলকানি হতে পারে, পুরনো চর্মরোগ থাকলে সেটাও বাড়তে পারে। এ ছাড়া ধুলার কারণে গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি, সাইনাসের ব্যথাও হতে পারে।”
তিনি বলেন, “নির্মাণকাজের বিকট শব্দের কারণে মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন, অস্থিরতা, পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া এ ধরনের সমস্যাগুলো হয়। আমরা এখন যেসব রোগী পাচ্ছি, তাদের বেশিরভাগই এ ধরনের সমস্যা।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, “আমি যখন হল থেকে ক্লাস রুমে আসি, তখন মাস্ক ছাড়া রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। প্রচণ্ড ধুলাবালি নাকে-মুখে এসে পড়ে। রাস্তাগুলো প্রচণ্ড ভাঙা, অটোরিকশার ঝাঁকুনিতে একটু স্বস্তিতে নিয়ে চলাফেরা করা যায় না। আমরা আগে একাধিকবার প্রকৌশল দপ্তরের সঙ্গে দেখা করলেও কোনো সুরহা হয়নি।
“প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে দেখা করলে, উনি বলেছেন সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু আমরা এখনও অগ্রগতি দেখেনি।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরীকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
এ নিয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা ঠিকাদারদের সঙ্গে এরই মধ্যে কয়েকবার বসছি এ বিষয়ে। তারা বলেছিল, জলকামান দিয়ে তার পানি দেবে। প্রথমদিকে কিছুদিন দিয়েছিল। আবার বসি দেখি।”
আজকের সিলেট/এপি
নিউজ ডেস্ক 








