ছবি নিজস্ব প্রতিবেদক
গোয়াইনঘাট উপজেলার হাওরাঞ্চলে, সোনালী ফসল বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তীব্র তাপদাহ ও আগাম বন্যার ঝুঁকি উপেক্ষা করে কৃষক কৃষাণী পাকা ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে মাঠে এখনো পুরোপুরিভাবে ধান কাটা শুরু হয়নি,অল্প অল্প জায়গায় পাকা ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উৎসব মুখর পরিবেশে ধান কাটা শুরু হবে বলে জানান কৃষকরা।
সরেজমিনে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কেউ কেউ নিজের জায়গা আবাদ করেছেন আবার কেউ কেউ বর্গা চাষী, তবে বোরো ধানের ভালো ফলনে কৃষকরা খুশি।
অনেক কৃষক জানান, কিছু কিছু জায়গায় বোরোধান আবাদের সময় পানি সংকট থাকায় কিছুটা ফসল হানি হয়েছে এবং উৎপাদন খরচ বেড়েছে। পানি সংকট না থাকলে আরো বেশি ফসল পাওয়া যেত।
সোনালী ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়,কৃষকরা কষ্টার্জিত সোনালী ধান কেটে জমির আইলে সাজিয়ে রাখছেন। আবার বিকেলবেলায় সমতল জায়গায় তুলে মাড়াই দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করছেন। হাওরের মাঠেই ধান শুকানো মাড়াই ঝাড়াইয়ে সহযোগিতা করছেন ঘরের গৃহিণীরাও। ধান শুকানোর পর কেউ বা কাঁধে করে আবার কেউ গাড়িতে করে বাড়ির গুলায় তুলতে নিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ও শ্রমিক সংকট নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে কৃষকদের মাঝে। আবাদকৃত বোরোধান কাটা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। চারিদিকে সবুজ ও সোনালী রঙের মিশ্রণে প্রকৃতিতে মনোরম দৃশ্যে কৃষকের মনে আনন্দের ঢেউ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১০০১৮ হেক্টর জমিতে বোরোধান আবাদ হয়েছে। ধান কাটায় স্থানীয় প্রশাসন যান্ত্রিক সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে স্বপ্নের ফসল রক্ষা করতে মাঠের সোনালী ধান দ্রুত ঘরে তুলতে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে কৃষি অফিস। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ কাজ করছেন।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে 








