হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমতলা গ্রামের মাসুক মিয়া মাত্র পাঁচ মাস আগে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন পরিবারের সুখ ও উন্নত জীবনের আশায়। প্রবাসে চাকরি করেই ভালভাবেই দিন কাটাচ্ছিলেন মাসুক, তবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার জীবন চিরতরে থেমে যায়।
গত ৪ জানুয়ারী সৌদি আরবে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মাসুক মিয়া। দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯ জানুয়ারী মারা যান তিনি। তবে মাসুকের পরিবার জানতেন না, তাকে কখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কিনা।
পরে মাসুকের সহকর্মী মাহমুদুল হাসান রুবেল, সৌদি দূতাবাসের সহযোগিতায়, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মাসুকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন। অবশেষে, ২৬ জানুয়ারী সোমবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার লাশ পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে রুবেলের বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত র্যাব সদস্য কামাল হোসেন লাশ গ্রহণ করে, তা মাসুকের বাড়ি নিয়ে আসেন।
লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নিহত মাসুকের স্ত্রী ও দেড় বছরের একমাত্র ছেলে আফনান রয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়দের কাছে মাসুকের মৃত্যু অত্যন্ত শোকাবহ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার বিকেলে আমতলা শাহী ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে, তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকা শোকাবহ হয়ে উঠেছে এবং পরিবারটি গভীর শোকে ডুবে রয়েছে।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এপি
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








