জৈন্তাপুরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ PM

জৈন্তাপুরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৭/২০২৬ ০৪:৩৯:১০ PM

জৈন্তাপুরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু


জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের রুপচেং উত্তর মহল্লায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ফারজানা আক্তার শিমু (২৩)-এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত ফারজানা আক্তার শিমু জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের কমলাবাড়ি গ্রামের সেলিম আহমদের মেয়ে। প্রায় ছয় মাস আগে একই ইউনিয়নের রুপচেং উত্তর মহল্লার বাসিন্দা মৃত সামসুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

শনিবার সকাল প্রায় ৯টার জৈন্তাপুর উপজেলায় এ ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী রাসেল আহমদ (২৮) ও শাশুড়িকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবার ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিহতের বাবা সেলিম আহমদ অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি, মানসিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার মেয়েকে নিয়মিত চাপ দেওয়া হতো। তিনি বলেন, ইফতারের সামগ্রী, সম্প্রতি দেওয়া আম-কাঁঠাল এবং বাড়ি নির্মাণের জন্য টাকা চাওয়াসহ বিভিন্ন অজুহাতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন শিমুকে কটূক্তি ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।

তিনি জানান, গত সোমবার (৬ জুলাই) শিমুকে তার স্বামী ও শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে শিমু অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে চিকিৎসা শেষে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) দুই পরিবারের সম্মতিতে তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে রাসেল আহমদ ফোন করে জানান, শিমু ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছালে তাদের দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর শিমুকে সেখানে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জৈন্তাপুর মডেল থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে যায়।

পরিবারের অভিযোগ, তাদের জানানো হয়েছে শিমু তার স্বামীর চাচার বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তবে পুরো ঘটনাটিকে তারা অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের আনা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রাসেল আহমদের বসতঘরের একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে শিমুকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর