২০২৫ সালের প্রথম ছুটিতে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নতুন বছরের শুরুতে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে বহু পর্যটক ছুটে এসেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতকালে এমনিতে পর্যটক বেশি থাকে এরমধ্যে নতুন বছরের আগমন এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে পর্যটকদের সমাগম অনেক বেড়েছে। বিশেষত, ভোলাগঞ্জ, জাফলং, সাদাপাথর, চা বাগানগুলো, এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
গোয়াইনঘাটের স্বচ্ছ পানির ধারা এবং সবুজ প্রকৃতির পরিবেশ উপভোগ করতে পর্যটকরা বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। এছাড়া সিলেটের চা বাগানগুলো, যেমন মালনীছড়া, লাক্কাতুরা, এবং জাফরাবাদ, সবসময়ই আকর্ষণীয় স্থান হয়ে থাকে। ছুটির দিনে পর্যটকরা এই চা বাগানগুলোর মনোরম পরিবেশে সময় কাটাচ্ছেন।
শাহজালাল (র.) ও শাহপরান (র.) মাজারে মাজার জিয়ারত করতে এসে দর্শনার্থীরা ছুটিকে আধ্যাত্মিকভাবে উদযাপন করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকরা উপভোগ করেছেন মাজারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং পরিবেশ।
জাফলংয়ে পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি, পাথরের সমাহার এবং মেঘালয়ের পাহাড়ের দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা এসেছেন। বিশেষ করে বিজয় দিবসের ছুটির দিনে জাফলংয়ে পর্যটকদের ভিড় ছিল ব্যাপক।
মাজহারুল ইসলাম নরসিংদী থেকে তার স্ত্রী ও ২ কন্যা সন্তানকে নিয়ে সিলেটে ঘুরতে এসেছেন। তিনি জানান, জাফলং বেড়াতে এসেছেন। আগেও কয়েকবার জাফলং এসেছিলেন। তবে এবার যেন জাফলংয়ের সৌন্দর্য তার কাছে অন্যরকম লাগছে। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন সিলেটে ছিলাম। অনেক জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু আমার স্ত্রী-সন্তানরা এই প্রথম সিলেট আসলো। তাদের খুব ভালো লেগেছে সিলেটের পরিবেশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শীতকালে পর্যটকদের সমাগম ভালো থাকে। কিন্তু এ বছর একটু কম ছিল। সম্প্রতি বড়দিন, নতুন বছর আর সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি মিলিয়ে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। তাদের ব্যবসাও বাড়তি চাহিদা পেয়েছে।
তবে পর্যটকরা মনে করছেন, সিলেটের পর্যটন খাতের আরও উন্নয়ন হলে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগ্রহ আরও বাড়বে। পরিবহন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন তারা।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি









