ভারতে বিএসএফের হাতে আটক ১৩ বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। আটকদের মধ্যে ৯ জন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ও ৪ জন গোয়াইনঘাট উপজেলার। ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালানের অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের ডাউকি পুলিশ ও বিজিবি।
ভারতের সীমান্তে আটকরা হলেন- সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফখরুল ইসলামের ছেলে সাজু আহমদ (২০), গোয়াইনঘাট উপজেলার বারহাল গ্রামের আয়ুব আলীর ছেলে শামীম (২১), একই গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে হাবিব আহমদ (২২), জাফলং তামাবিল এলাকার মতিন মিয়ার ছেলে নয়ন (১৯), জৈন্তাপুর উপজেলার মোস্তফা মিয়ার ছেলে সজিব (১৯), একই উপজেলার গুচ্ছগ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে মোবারক (১৯), ইলাল মিয়ার ছেলে আরিফ (১৯), দুলতিপুর গ্রামের ইব্রাহিম আলীর ছেলে ফখরুল ইসলাম (১৯), শ্রীপুর গ্রামের জামরুল মিয়ার ছেলে রুবেল (২৫), জৈন্তাপুরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে রুহুল (২০), গুচ্ছগ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে রনি (১৯) ও একই এলাকার বাসির মিয়ার ছেলে সোহাগ (১৯)।
বুধবার ভারতের ডাউকি পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে ঘটনার দুইদিন পর বুধবার সকালে বিজিবির পক্ষ থেকেও আটক হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে রোববার রাতে গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল এলাকার সোনাটিলা সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে ১৩ বাংলাদেশিকে আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। সেসময় এ বিষয়ে কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেনি বিজিবি-পুলিশ।
এ ঘটনার দুইদিন পর বুধবার সকালে ভারতে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএসএফ জানিয়েছে ২৩ ডিসেম্বর ভোর ৪টার দিকে বাংলাদেশের তামাবিল এলাকার বিপরীতে ভারতের ডাউকি এলাকার আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালানের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদেরকে ডাউকি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর তাদেরকে কোন কারাগারে পাঠানো হয়েছে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিএসএফ কোনো কিছু জানায়নি।
এদিকে স্থানীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গোয়াইনঘাট উপজেলার স্থানীয় একটি চোরাচালান চক্র নিরিহ শ্রমিকদের লোভ দেখিয়ে সীমান্তের অপার থেকে চোরাই পণ্য আনার জন্য পাঠায়। বিনিময়ে শ্রমিকরা সামান্য কিছু মজুরী পায়। আর জীবনের ঝুকি নিয়ে চোরাই পণ্য আনতে গিয়ে মৃত্যুর মূখোমূখিও হতে হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই চোরাচান চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন যুবদলের এক নেতা। ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস চান না। এই চক্রটিকে এখনই বন্ধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবগ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রবিবার জাফলং জিরোপয়েন্ট এলাকা দিয়ে ১৩ জন যুবক ভারতে অনুপ্রবেশ করে। রাতে ফেরার পথে তারা বিএসএফ’র হাতে আটক হন। পরে বিএসএফ তাদেরকে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি









