মধ্যনগরে সম্ভাবনাময় হিজল ও করচ বাগ হতে পারে পর্যটন নগরী
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৫ AM

মধ্যনগরে সম্ভাবনাময় হিজল ও করচ বাগ হতে পারে পর্যটন নগরী

অমৃত জ্যোতি, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ২৩/১২/২০২৪ ০৫:১০:০৫ AM

মধ্যনগরে সম্ভাবনাময় হিজল ও করচ বাগ হতে পারে পর্যটন নগরী


সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের জমশেরপুরে সম্ভাবনাময় হিজল ও করচ বাগের প্রতি প্রশাসনিক নজর বা সুদৃষ্টি দিলেই হবে মনোরম পর্যটন নগরী। প্রতিদিন সকাল বিকেলে জমে উঠে নারী পুরুষ সহ সববয়সী জনমানুষের মেলা।চলে মহাসমারোহে বনভোজন আড্ডা।

ঐতিহাসিক বেশ কিছু বাগ(বাগিচা) বিলুপ্ত হলেও হাওরাঞ্চলের ফাঁকে ফাঁকে আজো খানিক জায়গা দখল করে সারিবদ্ধ ভাবে দাড়িয়ে রয়েছে হিজল ও করচ গাছ।দেশীয় বনায়ন বিলুপ্তের পথে হিজল গাছগুলো যাদের জন্ম শতাব্দী পেরিয়েছে।শতাব্দী পেরুলেও যতটুকু ডাল পালা থাকার কথা তা কিন্তু নেই।বিগত তিন বছর যাবৎ গাছের ডাল কাটা স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নজর কেরেছে পরিবেশবিদ ও পর্যটকদের। এবং চারদিকে প্রকৃতিকে  সাজিয়েছে অপরুপ সবুজের কোমল ছায়ায়।

ষড়ঋতুতে জীবন বাজি রেখে হিজল গাছ গুলো দাড়িয়ে রয়েছে বুকচিরা শরীর নিয়ে।হিজল গাছগুলো পরিবেশ তথা ফসল রক্ষায় যথেষ্ট ভুমিকা রেখে আসছে আজো।এই গাছের গর্তে বসবাসকারী পেঁচাগুলো ফসল বিনিষ্টকারী ইদুরকে নিধন করে থাকে।বসন্ত ও গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমে হিজল ও করচ গাছগুলো পথচারী,কৃষক,শ্রমিকে দেয় কোমল শান্তির ছোয়া।

অন্যদিকে পরিবেশ প্রেমী গোপেশ সরকার নামীয় এক উদ্যোগী নিজস্ব অর্থায়নে বোয়ালার হাওরের পতিত জায়গার কান্দায় প্রায় ৫বছর পুর্বে তিন হাজার করচের চারা রোপন করে হাওরের পরিবেশকে করেছেন অন্যতম।সাজিয়েছে নিজ নামে "গোপেশ বাগ"।ভরাবর্ষার মৌসুমে ঝড়ের কবলে পড়া নৌযানের আশ্রয়ের ভরসাও গাছগুলো।

সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি হিজল বাগের মধ্যে মধ্যনগর ও কলমাকান্দার সংযোগ সাবমার্জেবল সড়কের পাশ্ববর্তী জমশেরপুর সংলগ্ন এই হিজল বাগানের অবস্থান।নজর ও প্রাণ কেড়েছ পর্যটকদের।শরৎকালের শেষ ও বর্ষার পুর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কয়েকটি উপজেলা থেকে প্রতিদিন সকাল বিকেল সময় জমেউঠে অপরিচিত জনমানুষ ও নারী'পুরুষের আড্ডা।

জানা যায় হিজলগাছ গুলো রাজতন্ত্রের সময় তৎকালীন জমিদারদের পূর্বপুরুষগন রোপন করেছিলেন। হাতী দিয়ে এলাকা পরিদর্শনের সময় তাঁরা এসব হিজল গাছের গোড়ায় হাতী বেধে রাখতেন।এবং ছায়ার তলে বসে বিশ্রাম নিতেন।

হাওর গবেষক সজল কান্তি সরকারের মতে বিলুপ্তির পথে হাওরাঞ্চলের বন ও পরিবেশ রক্ষায় এসব দেশীয় গাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে।প্রতি জৈষ্ঠ্যমাসে হিজল ও করচের বীজ সংরক্ষণ করা জরুরী।এবং পরিবেশ ধ্বংসকারীরা হিজল গাছকে যেন মাথা মুড়িয়ে ধ্বংস না করে সেদিকে প্রশাসনিক সুদৃষ্টি কামনা করছি।একাধিক পর্যটকদের সাথে কথা বললে তিনিরা জানান পর্যাপ্ত সুবিধা থাকলে পর্যটকদের আনাগোনা আরো বাড়বে।তাই দেশীয় প্রকৃতির বনায়ন রক্ষায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের যথোপযুক্ত সুদৃষ্টি কমনা করছি।

এবিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায়ের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দেশীয় বনেরমধ্য হিজল ও করচগাছ অন্যতম।দেশীয় পশু পাখি,ফসল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম খুব শিগ্রই পরিদর্শন করবো।এগুলো টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় জনমানুষের সহযোগিতায় মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন সবরকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবে।

আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর