গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের বরাদ্দ করা সরকারি বাসভবনে গরুর খামার করেছেন এক কর্মচারী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনের ১০ গজ দূরে এই খামার গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি বেতন নেওয়া এই কর্মচারী অফিসের চেয়ে নিজের গড়ে তোলা খামারেই সময় ব্যয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গরুর খামার গড়ে তোলার বিষয়টি অবগত রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও। গরুর পরিচর্যায় নিয়োজিত রয়েছেন ইউএনও অফিসের এক কর্মচারী। সরকারি বেতন নেওয়া এই কর্মচারী ইউএনও অফিসের চেয়ে গরুর পরিচর্যার পেছনে সময় ব্যয় করেন।
সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের ভেতরে যেতে চাইলে আব্দুস সোবহান বাধা দেন। পরে ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, মূল ভবনের একটি বড় কক্ষে ইট দিয়ে গরুর গোয়ালাঘর তৈরি করা হয়েছে। ভেতরে ছোট-বড় প্রায় ৮/১০টি গরু বাঁধা রয়েছে। ভবনের অন্য আরেকটি কক্ষের নিচে বিছানা ও কাপড় রয়েছে। গরু দেখাশোনায় থাকা ব্যক্তি এখানে বসবাস করেন। তবে বিষয়টি এড়িয়ে যান আব্দুস সোবহান। এছাড়া ভবনের বাইরে চারপাশে সবজি চাষ করার জন্য বাঁশের মাচা তৈরি করা হয়েছে। উৎপাদিত সবজি ইউএনওর অফিস সহকারী নিয়ে যান অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত এলাকায় সরকারি এই বাস ভবনের ভেতরে রাখা গরুগুলোর তদারকিতে আছেন ইউএনও অফিসের কর্মচারী আব্দুস সোবহান।
সরকারি বাসভবনে গরু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত ২/৩ মাস থেকে এখানে গরু রাখা হয়। সংশ্লিষ্টরা ভবনটি পরিত্যক্ত বললেও রয়েছে বিদ্যুতের ব্যবহার। দিনে কিংবা রাতে সমান তালে আলোক বাতি ব্যবহার করে বিদ্যুতের অপচয় করতে দেখা যায় বাস ভবনে গড়ে তোলা গরুর খামারে।
বিগত ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের বরাদ্দ করা বাস ভবনে খামার তৈরি করা হয়েছে জানান স্থানীয়রা।
গরু খামারে নিয়োজিত কর্মচারী আব্দুস সোবহান বলেন, এটা গরু রাখার ঘর কি না, আমি জানি না। আমাকে গরু দেখাশোনার জন্য রাখা হয়েছে। প্রতিদিন এখান থেকে গরু বের করে চরাতে নিয়ে যাই, ঘাস খাওয়াই এবং সন্ধ্যায় গোয়ালঘরে এনে গরু বেঁধে রাখি।
খামারের মালিককে জানতে চাইলে আব্দুস সোবহান প্রথমে কথা না বলে, অন্যত্র মোবাইলফোনে কথা বলতে চেষ্টা করেন। পরে জানান উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী রুম্মান আহমদ নওশাদ এই খামারের মালিক।
অভিযোগের বিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী রুম্মান আহমদ নওশাদ বাংলানিউজকে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনটি পরিত্যক্ত ছিল। কবে নাগাদ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে জানতে চাইলে পরে জানাবেন বলে ফোনকল কেটে দেন এবং এ বিষয়ে প্রতিবেদন না করতে তার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে দিয়ে ফোনকলে অনুরোধ করান।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কবে নাগাদ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, তা দেখে জানাতে হবে। তার বাসভবনের পাশেই ওই বাসভবনটির অবস্থান। সেখানে জঙ্গল লেগেছিল। পোকামাকড়ের ভয় থাকায় পরিষ্কার করে গরুর খামার করা হয়েছে।
এটাকে ভালো উদ্যোগ দাবি করে তিনি বলেন, সরকারও চাচ্ছে কোনো জায়গা খালি না থাকুক। তাই এই জায়গাটি কাজে লেগেছে, মনে করছেন তিনি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি 








