পূজার ছুটির পরেও কোম্পানীগঞ্জ সাদা পাথরে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। ভারতের উচু পাহাড় ভেদ করে ঝনঝন শব্দে ছোট ছোট তরঙ্গে নেমে আসা হিম শীতল স্বচ্ছ জলের স্পর্শে মুগ্ধ ভ্রমন পিপাসু প্রকৃতি প্রেমীরা।পাহাড়ের বেষ্টনীতে সবুজ প্রকৃতি নীল আকাশ পাহাড়ের গায়ে তুলোর মত খন্ড খন্ড মেঘরাশির সফেদ ঝর্না ধারার বুকে শীতল পানিতে গা ভাসিয়ে প্রশান্তির সাগরে ডুব দিচ্ছেন আগত তৃষ্ণার্ত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা।
সিলেটের সীমান্ত ঘেঁষা মেঘালয়ের আকাশ ছোঁয়া পাহাড়ের নিচে রাশি রাশি ছোট বড় পাথর ও নয়ন জুড়ানো মন ভোলানো শীতল পানির স্রোতধারা এবং সবুজ প্রকৃতি সাদা পাথর পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। কোম্পানীগঞ্জ ভোলাগঞ্জের একসময়ের ঐতিহ্যের স্মারক পাথর বহনকারী রূপ লাইন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে প্রাণহীন ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। জল আর পাথরের মেলবন্ধনই এখন ‘সাদা পাথর’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে সীমান্তিক জনপদ কোম্পানীগঞ্জ।
সরেজমিনে দেখা যায়, হেমন্তের শুরুতে টানটান রোদে নৌকা ঘাট থেকে শুরু করে জিরো পয়েন্ট সীমান্ত পর্যন্ত পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত সাদা পাথর এলাকা। শ্যালো মেশিন দিয়ে তৈরি ইঞ্জিন চালিত বুট নৌকা পর্যটকদের নিয়ে যাতায়াত করছে। নদীর দুই পাড়ে স্বচ্ছ জলের ঢেউয়ের আঁচড় মুছড়ে পড়ছে। সরকারীভাবে উল্লেখযোগ্য বিনোদনের কোন ব্যবস্থা না থাকলেও উচু পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি, পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট তরঙ্গে স্বচ্ছ জলের শ্রোতধারা পর্যটকদের কাছে টানে সাদা পাথর। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীরা মেতে উঠেন শৈশবের সেই দুরন্তপনায়।
কেউ বা পাথর কাঁধে তুলে,কেউ ছোট পাথর দিয়ে দুই হাতে বাজনা বাজিয়ে,আবার কেউ হিম শীতল জ্বলে গা ভাসিয়ে পানি ছিটিয়ে সুরে বেসুরে তালে বেতালে নতুন ও পুরানো দিনের গান গেয়ে উচ্ছ্বাস করেন। কেউবা আবার নিজ মোবাইলে আবার কেউ ক্যামেরা ম্যান দিয়ে প্রিয়জনের সাথে কাটানো প্রিয় মুহূর্তের স্মৃতি ধরে রাখতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে সেলফি ও ছবি তুলে আনন্দ উল্লাসে সময় পার করেছেন। যেখানে নেই কোন বয়সের হিসাব, সবাই যুবক তরুণ এমনভাবসাব।
বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-স্বজন, ছেলে মেয়ে,পরিবার-পরিজন সকলের সাথে থাকা মুঠোফোনের আলোর ঝলকানিতে দূর দূরান্ত থেকে আসা সকল ক্লান্তি মুছে ফেলে তাদের হৈ-হুল্লোড়ে প্রাণবন্ত সাদা পাথর এলাকার পরিবেশ। ক্ষণিক সময়ের জন্য হলেও জীবনের সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে খোশগল্পে মাতোয়ারা থাকেন পর্যটকরা। বিদায় বেলায় কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ করে নীড়ে ফিরার ভাবনা নিয়ে শুরু হয় আবার পর্যটকদের পথ চলা।
বরিশাল কুয়াকাটা থেকে আগত পর্যটক খোকন হাওলাদার বলেন,দেশের অন্যান্য পর্যটন স্পট এর চাইতে সাদা পাথরের মধ্যে রয়েছে ভিন্নতা। এখানে সবুজ প্রকৃতি স্বচ্ছ জল সাদা পাথর, হিমেল হাওয়া,উচু পাহাড় নীল আকাশ সব মিলিয়ে অন্যরকম অনুভূতি অনুভব করা যায়। সচরাচর অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতে সৌন্দর্যের এতগুলো সমণ্বয় খুঁজে পাওয়া যায় না।
সিলেটের প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষগুলো অন্তত্য ভালো। যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসে তারা একবার হলেও সাদা পাত্থরে এসে ভ্রমণ করা উচিত বলে জানান তারা।
সাভার থেকে আসা পর্যটক বলেন,শহরের ব্যস্ততা ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে মনকে ফ্রেস করতে সাদা পাথরে আসা।এ নিয়ে তিনবার এসেছি। সাদা পাথরের প্রকৃতি ও সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। এখানে আমরা আনন্দের পাশাপাশি মনের প্রশান্তি খুঁজে পাই।
কুড়িগ্রাম রাজার হাট থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক শহিদুল ইসলাম বলেন,এই প্রথম আমি পরিবার নিয়ে সাদা পাথরে এসেছি। এখানে এসে যা দেখলাম সত্যি আমরা মুগ্ধ। এখানের প্রকৃতি ও পরিবেশ যে কোন মানুষকে কাছে টানবে। যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসে তারা একবার হলেও সাদা পাত্থরে এসে ভ্রমণ করা উচিত।
সাদা পাথর স্পটে গাড়ি পার্কিং ও নৌকা ভাড়া নিয়ে কিছু পর্যটক এর অভিযোগ পাওয়া যায়।তারা বলেন,গাড়ির পার্কিং এর জন্য ১০০ টাকা দিতে হয়,যা আগে ছিল না। আবার সামান্য জায়গা নৌকা ভাড়া ৮০০ টাকা তাও আবার আটজনের বেশি ওঠা যায় না।এক পরিবারের দশজন একসাথে আসলে দুইজনকে আবার অন্য নৌকা দিয়ে আলাদা করে ৮০০ টাকা ভাড়া দিয়ে যেতে হয়। যদিও একই নৌকায় আরো চার থেকে পাঁচ জন ধরবে।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এসটি
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে 








