দেশজুড়ে অস্থিরতা
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১০:৪২ AM

দেশজুড়ে অস্থিরতা

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১/০৭/২০২৪ ১০:৩২:৩৫ AM

দেশজুড়ে অস্থিরতা


সিলেটের সুরমা পার থেকে চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্রেও এখন এক অস্থির সময়। টান টান উত্তেজনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন, গুলি-সংঘর্ষে আড়াই শতাধিক মৃত্যু, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, দেশজুড়ে গ্রেফতার ও মামলা, এসব ঘিরে আন্দোলনকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে অনড় অবস্থান এবং সর্বশেষ জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের বিষয় নিয়ে যেন ঘোলাটে এক পরিস্থিতি। সর্বত্র এক প্রশ্ন-কোন পথে আসলে দেশ?

গত ২১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে চলছে কারফিউ। ধীরে ধীরে শিথিল হলেও কারফিউ তুলে নেয়া হচ্ছেনা। এ অবস্থায় দিনে ব্যস্ত চিত্র দেখা গেলেও রাত ৮/৯টার পর থেকে দৃশ্য পাল্টাতে থাকে। জনারন্য রাস্তা, দোকান-পাট, বিপনী-বিতান, বাস স্টেশনসহ সব জনশূণ্য হয়ে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য সব স্থবির হয়ে যায়। রাতের নগর দখলে চলে যায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর। এ নিয়ে যেমন আছে আতঙ্ক, তেমন আছে উদ্বেগও!

এরমাঝেও চলছে জীবন। সরকারও চলছে কঠিন সময়কে সঙ্গী করে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা আছেন গ্রেফতারের ভয়ে। বাইরে নন কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীও।

এ অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে সারা দেশে শোক ঘোষণা করা হয়। সরকারের শোকের অংশ হিসেবে সরকার সমর্থিত ব্যক্তি বা দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে কেউ কেউ আবার ফেসবুক প্রোফাইল বা কাভার ফটো কালো করে শোক প্রকাশ করেন।

পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে মঙ্গলবার একক বা ঐক্যবদ্ধভাবে লাল কাপড় মুখে ও চোখে বেঁধে ছবি তোলা এবং অনলাইনে প্রচার কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকারীরা। এরপর থেকে লাল হয়ে উঠেছে ফেসবুক! বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে এই কর্মসূচির পক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককে এ নিয়ে পোস্ট করতে দেখা গেছে। শুধু আন্দোলনকারী না, প্রতিবাদী এই ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষ, অনেক সোশ্যাল মিডিয়া সেলিব্রেটি কিংবা তারকাদেরও। তাদের কেউ কেউ ফেসবুকের প্রোফাইল ছবি বা কাভার ফটো পরিবর্তন করেছেন। কেউ কেউ আবার মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধেও পরিবর্তন করেছেন। সরকার ঘোষিত শোক প্রত্যাখান করে তারা আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ সেখানে লিখেছেন, “কালো নয়, আমাদের শোকের রং লাল”।

সরকার ও আন্দোলনকারী যখন বিপরীতমুখী অবস্থানে তখনই নির্বাহী অদেশে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ ঘোষণা হতে পারে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পরশু ১৪ দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সাত মন্ত্রীর রুদ্ধদ্বার বৈঠকও হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে সরকার। সেটার প্রক্রিয়া কী হবে, তা আইনগত দিক দেখেশুনে সরকার শিগগির পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। তবে নিষিদ্ধের ঘোষণা আজ বুধবার যেকোন সময় আসতে পারে। আইনমন্ত্রী নিজেই এটা জানিয়েছেন।

ওদিকে, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে দলটি বলেছে, জামায়াত নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বেআইনি, এখতিয়ার বহির্ভূত ও সংবিধান পরিপন্থী।

বিবৃতিতে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বা জোট অন্য একটি রাজনৈতিক দলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বাংলাদেশের আইন ও সংবিধান কাউকে এ এখতিয়ার দেয়নি।

এদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৬ সমন্বয়ককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছে বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের পক্ষে এ ঘোষণা দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। ‘হত্যা, অবৈধ আটক ও নির্যাতনের বিচার চাই’ ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ সমন্বয়ককে মুক্তি দেওয়া না হলে বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ ডিবি কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছেন ইফতেখারুজ্জামান।

এদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ‘দেখামাত্র গুলির নির্দেশ’ দেওয়া ও আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। ইইউর পররাষ্ট্র বিভাগের ওয়েবসাইটে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২৭ জুলাই (শনিবার) লাওসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোটের (আসিয়ান) আঞ্চলিক ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

আর জাতিসংঘ জানিয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে হাজারো তরুণ ও রাজনৈতিক বিরোধীদের গণগ্রেপ্তারের খবরে জাতিসংঘ মহাসচিব উদ্বিগ্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের খবরেও উদ্বিগ্ন তিনি। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।

এসব নানা কারণে দেশে যখন টানটান উত্তেজনা তখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ থেকে সব ধরনের অফিস-আদালতে স্বাভাবিক সময়সূচি চালু থাকবে।

মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ শিবলী সাদিক বিবিসিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আজ থেকে সকল অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী চলবে।

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় গত ২১, ২২ ও ২৩ জুলাই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিলো সরকার।

পরে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলে ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করলে গত ২৪ জুলাই থেকে সীমিত পরিসরে বিভিন্ন অফিস-আদালত চালু হয়।

তবে অফিস-আদালত খোলা থাকলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অনড় অবস্থান, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ও দেশজুড়ে গ্রেফতার-মামলায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে-দেশ আসলেই কোন পথে?

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর