সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ, বংশীকুন্ডা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের মানুষের ভূমিসেবা সহজ করতে প্রায় এক বছর আগে মহিষখলা বাজার এলাকায় নতুন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উদ্বোধন করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সেখানে শুরু হয়নি কোনো সেবা কার্যক্রম। ফলে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা পূরণ তো দূরের কথা, আগের মতোই ভোগান্তি নিয়েই ভূমি–সংক্রান্ত কাজ করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন অফিসের জন্য ভবন নির্ধারণ, আসবাবপত্র সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় অফিসটি এখনো পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না। এর ফলে জমির নামজারি, খাজনা প্রদান, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ কিংবা রেকর্ড সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য এখনো মানুষকে মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যেতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নতুন অফিস চালুর ঘোষণা শুনে তারা আশাবাদী হলেও বাস্তবে কোনো সুফল পাচ্ছেন না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হয়ে গেলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। একটি কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় পুরো দিন ব্যয় করতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।
গোলাপপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল এহসান বলেন, অনেক দিনের দাবির পর এলাকায় ভূমি অফিস হয়েছে। কিন্তু অফিসে গিয়ে কোনো কাজ করা যায় না। সব কাজের জন্য এখনো মধ্যনগরে যেতে হয়। এতে আমাদের সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
বংশীকুন্ডা গ্রামের সুমন মিয়া বলেন, অফিস উদ্বোধনের পর মনে হয়েছিল, এখন হয়তো ভোগান্তি কমবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। মানুষ এখনো আগের মতোই দূরে গিয়ে কাজ করছে।
ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অফিস ভবন প্রস্তুত থাকলেও নিয়মিত সেবা কার্যক্রমের কোনো চিত্র নেই সেখানে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ও উত্তর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন ভূমি অফিস স্থাপন করা হয়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কোডের অনুমোদন না পাওয়ায় এখনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আশা করছি, খুব শিগগিরই অফিসটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হবে। তখন এলাকাবাসী নিজ এলাকাতেই কাঙ্ক্ষিত ভূমিসেবা পাবেন এবং তাদের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমে আসবে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক কোড অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে জনগণ দ্রুত সেবা পেতে পারেন।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








