উন্নয়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি নানা জনসমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায়। কৃষকদের সেচসুবিধা, রাস্তাঘাটের সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন থেকে শুরু করে সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এসব বিষয় উঠে এসেছে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতবিনিময় সভায়।
বুধবার সকাল ১১টায় জৈন্তাপুর উপজেলা মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন।
সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
মতবিনিময়কালে বক্তারা জৈন্তাপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় কৃষকদের সেচসুবিধা নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং কৃষিজমি রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বেকারত্ব নিরসনে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপরও জোর দেন বক্তারা।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারি ও বালুমহালগুলো পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রচলিত আইন অনুসরণ করে বৈধ প্রক্রিয়ায় চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান বক্তারা।
সভাপতির বক্তব্যে নবাগত ইউএনও মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মতবিনিময় সভায় উত্থাপিত সমস্যাগুলো এবং অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া পরামর্শ তিনি নোট করেছেন। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ অনুসরণ করে প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে জৈন্তাপুরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
তিনি আরও বলেন, জৈন্তাপুরের ১৭ পরগনায় মুরব্বিদের সম্মান ও তাঁদের পরামর্শের ভিত্তিতে সমাজ পরিচালনার যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও শিক্ষণীয়। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি 








