সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার গলহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল হকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ফান্ড ও সরকারি অনুদানের অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া পরীক্ষা না নিয়েও অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাঁচতলা ভবন নির্মাণ নিয়েও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, নির্মাণকাজের সময় ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের প্রাপ্য ভাতা না দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক লাকী রানী শীল ও যমুনা দেবী তাঁদের সন্তানদের সরকারি বৃত্তির অর্থ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। লাকী রানী শীলের দাবি, তাঁর সন্তান পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেলেও কোনো অর্থ পাননি। যমুনা দেবীর সন্তানও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তির জন্য যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সেই অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃত্তির অর্থের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কখনো ‘সার্ভার সমস্যা’, আবার কখনো জন্মসনদ অনলাইনে না থাকার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
অভিযোগকারীরা বলছেন, বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য বৃত্তির অর্থ নিশ্চিত করতে হবে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গলহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল এসব অভিযোগ করছে। আমার বিরুদ্ধে করা কোনো অভিযোগের সঙ্গেই আমার সম্পৃক্ততা নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, “গলহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেছি। তিনি বিষয়টি তদন্ত করবেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর, প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আজকের সিলেট/ জেকেএস
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








