জৈন্তাপুর সীমান্তে মাদক-চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার, ১০ দিনে বিপুল মাদক জব্দ
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ PM

জৈন্তাপুর সীমান্তে মাদক-চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার, ১০ দিনে বিপুল মাদক জব্দ

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২/০৯/২০২৬ ০৬:২৪:৪৬ PM

জৈন্তাপুর সীমান্তে মাদক-চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার, ১০ দিনে বিপুল মাদক জব্দ


সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে অভিযান জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১৯ ব্যাটালিয়ন। গত ১০ দিনে উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, হুইস্কি ও ফেনসিডিলসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে থানায় মামলা করা হয়েছে।

বিজিবির অভিযানের মধ্যে সম্প্রতি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ডিআই গাড়ি আটককে কেন্দ্র করে বিজিবির এক সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারজনের বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক। তাঁর দাবি, মামলার আসামিরা চিহ্নিত চোরাকারবারি।

এদিকে সীমান্তে একের পর এক অভিযান ও মামলা দায়েরের পর স্থানীয় কিছু মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে রাস্তা অবরোধ করে জনদুর্ভোগ এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ভাষ্য, সীমান্তে বিজিবি ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের ওপর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মিনি ট্রাক বা ডিআই গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট একটি মহলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের অভিমত।

তাঁরা মনে করেন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে রাস্তা অবরোধ কিংবা সংঘবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকে।

তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিজিবি নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে হয়রানি করছে। তাঁরা দ্রুত এসব ব্যক্তির নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

১৯ বিজিবির অধিনায়ক জানান, তাঁর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদারের ফলে গত এক মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিনই ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বিজিবি সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের বিভিন্ন রুট চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত এলাকায় অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর