কলেজের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে অধ্যক্ষকে আটকে জোর করে স্বাক্ষরের চেষ্টা
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ PM

কলেজের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে অধ্যক্ষকে আটকে জোর করে স্বাক্ষরের চেষ্টা

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০/০৯/২০২৬ ১০:১৫:১২ AM

কলেজের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে অধ্যক্ষকে আটকে জোর করে স্বাক্ষরের চেষ্টা


হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ সরকারি কলেজে ফান্ডের টাকা সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর না করায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহজাহান সেককে শিক্ষক স্টাফ রুমে আটকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে প্রস্রাব করার কথা বলে শিক্ষক স্টাফ রুম থেকে বেরিয়ে কলেজ থেকে দৌড়ে থানায় যান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহজাহান সেক।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে আজমিরীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সরকারি হয়। তবে শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতন পাওয়া শুরু করেন ২০২৩ সালে। এর আগে আজমিরীগঞ্জ সরকারি কলেজের সরকারি ফান্ড থেকেই তারা নিজেদের বেতন নিতেন। কলেজ ফান্ড থেকে ৫ জন শিক্ষকের কাছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীর প্রত্যেকের কাছে ২ লাখ করে টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে গত ১১ আগস্ট সরকারি স্মারকে নতুন সরকারিকরণকৃত মহাবিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ থেকে ২০২০-২১ পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতাদির চাহিদা পাঠানোর বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর কাছে প্রতিষ্ঠান ও সরকারের কোনো পাওনা বা দায় অবশিষ্ট নেই—এ মর্মে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে নাম ও পদবিসহ প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কলেজ প্রধান দায়ী থাকবেন বলেও স্মারকে উল্লেখ করা হয়।

কলেজ ফান্ড থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের টাকা নেওয়া থাকায় নির্ধারিত সময়ে ওই প্রত্যয়নপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহজাহান সেক বলেন, সরকারি ভাতা ও বেতন পাওয়ার জন্য কলেজের প্যাডে কলেজ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি—এমন উল্লেখ করে স্বাক্ষর দিতে শিক্ষকরা তাকে অনেক আগে থেকেই বলেছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি।

তার ভাষ্য, “কলেজ ফান্ড তাদের প্রত্যেকের কাছে টাকা পাবে। ৯ সেপ্টেম্বর তারা আমাকে জোর করে শিক্ষক স্টাফ রুমে আটকে রাখে এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে।”

অধ্যক্ষ আরও বলেন, প্যাডে কলেজ কোনো টাকা পাবে না—এমন উল্লেখ থাকায় তিনি স্বাক্ষর করলে পরবর্তীতে কলেজ ওই পাওনা টাকা নাও পেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন। তার দাবি, তাকে দরজা বন্ধ করে আটকে রাখা হয় এবং একপর্যায়ে গায়ে হাত তুলে চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি প্রস্রাব করার কথা বলে কলেজ থেকে বেরিয়ে থানায় যান। তবে অধ্যক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের শিক্ষকরা।

প্রভাষক বিদ্যুৎ কুমার বলেন, “এমন কিছুই হয়নি। আমরা একাদশ শ্রেণির ভর্তি এবং অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সম্মানি বণ্টন নিয়ে মিটিংয়ে বসেছিলাম। আমরা উনার সঙ্গে কোনো মতবিনিময় করতে পারি না, এটাই সমস্যা।”

প্রভাষক মানিক লাল চৌধুরী বলেন, কলেজে মিটিং চলছিল এবং কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রিন্সিপাল স্যার দ্বিমত পোষণ করে চলে যান। তবে প্যাডে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

আজমিরীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ পাল বলেন, অধ্যক্ষ থানায় আসার পর পুলিশ সদস্য দিয়ে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ উপস্থিত থাকা অবস্থায় অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মধ্যে বিষয়টির সমাধান করা হয়।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর