ফুটবল ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার রোজারিওতে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু এবার তার সেই ফেরা অন্য সবকিছুর চেয়ে আলাদা আর বেশি বেদনাদায়ক। যে শহরে পরিবার, শৈশব আর অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে, সেই রোজারিওতেই এবার ফিরছেন বাবাকে হারানোর শোক নিয়ে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট লডারডেল থেকে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও হোর্হের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। তাই অন্যদের মতো দলের সঙ্গে দেশে না ফিরে মেসি সরাসরি রোজারিও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখনই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বাবার সঙ্গে যেকোনো মুহূর্তে শেষ দেখা হয়ে যেতে পারে। বিশ্বকাপের পর রোজারিওতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন মেসি। ভাই মাতিয়াসের সভাপতিত্বে থাকা লিওনেসেও গিয়েছিলেন তিনি। এরপর নিজের প্রিয় কাজ, ফুটবলে ফিরতে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন। মাঠে ফিরে গোলও করেছেন, জিতেছেন ম্যাচ। কিন্তু এবার এলো সেই খবর, যেটি মেসি কখনোই শুনতে চাননি।
শুক্রবার নিজের এক সন্তানের ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন মেসি। সেখানে অন্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছেন, ছিলেন চিরচেনা হাস্যোজ্জ্বল ও মাটির কাছাকাছি মানুষটি। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই বদলে গেল সবকিছু। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মেসি এবার ফোর্ট লডারডেল থেকে ব্যক্তিগত বিমানে রোজারিওর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। গভীর রাতে সেখানে পৌঁছানোর কথা তার।
এবারের সফরের উদ্দেশ্য কোনো ম্যাচ নয়, কোনো ছুটি নয়, কোনো উৎসবও নয়। মায়ের সেলিয়া, ভাই-বোন এবং পুরো পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এই অপূরণীয় শোক সামলানোই তার একমাত্র উদ্দেশ্য। মেসির সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। নিজের শহর ও আপনজনদের সমর্থন নিয়ে এই কঠিন সময় পার করার চেষ্টা করবেন তিনি।
হোর্হে মেসি শুধু লিওর বাবা ছিলেন না; তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ভরসাও ছিলেন। স্পেনে মেসির জীবনের দীর্ঘ সময়জুড়ে ছেলের কাছাকাছিই ছিলেন তিনি। বার্সেলোনার দিনগুলো থেকে শুরু করে প্যারিস এবং পরে মায়ামিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত হোর্হের উপস্থিতি ছিল মেসির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাবা ছিলেন তার ম্যানেজারও। মাঠের বাইরের সিদ্ধান্ত, ক্যারিয়ারের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ে হোর্হে ছিলেন মেসির অন্যতম নির্ভরতার জায়গা।
মেসি নিজেই বহুবার বাবার প্রতি তার গভীর ভালোবাসার কথা বলেছেন। ছোটবেলায় বাবাকে খুব বেশি সময় কাছে না পেলেও রাতের অপেক্ষা করতেন কখন তিনি কাজ থেকে ফিরবেন, কখন তাকে জড়িয়ে ধরতে পারবেন। আজ সেই বাবাই নেই। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর যে রোজারিওতে মেসি ছুটে গিয়েছিলেন বাবার পাশে থাকার জন্য, এবার সেই শহরেই ফিরছেন তাকে চিরতরে হারানোর শোক নিয়ে। যে মানুষটি তার জীবনের প্রতিটি বড় পদক্ষেপে পাশে ছিলেন, এবার তার স্মৃতিকে বুকে নিয়েই মেসিকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
আজকের সিলেট/জেএন/ জেকেএস
ক্রীড়া ডেস্ক 








