গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ভবনের সর্বোচ্চ তলায় বসবাসকারীরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। কারণ দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের তাপ সরাসরি ছাদে পড়ে এবং সেই তাপ ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। ফলে ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) চালিয়েও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাওয়া যায় না। কিছু সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা নিলে ছাদের তাপমাত্রা কমিয়ে ঘরকে তুলনামূলক শীতল রাখা সম্ভব।
তাপ প্রতিরোধী রং ব্যবহার
বর্তমানে বাজারে ছাদের জন্য বিশেষ ধরনের তাপ প্রতিরোধী রং পাওয়া যায়। সাধারণত হালকা বা সাদা রঙের এসব আবরণ সূর্যের তাপ কম শোষণ করে এবং অধিকাংশ তাপ প্রতিফলিত করে দেয়। ফলে ছাদ তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। এই পদ্ধতিতে ছাদ পরিষ্কার করে তার ওপর বিশেষ রং প্রয়োগ করা হয়, যা দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর থাকে।
ছাদে তাপ নিরোধক আবরণ স্থাপন
ছাদের ওপর বিশেষ ধরনের তাপ নিরোধক শিট বা আবরণ ব্যবহার করাও একটি জনপ্রিয় সমাধান। এসব উপকরণ সূর্যের তাপ সরাসরি ছাদে পৌঁছাতে বাধা দেয় এবং ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। টিন, অ্যাসবেস্টস বা টালির ছাদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের আবরণ ব্যবহার করা যায়। একবার স্থাপন করলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এর সুবিধা পাওয়া যায়।
ছাদে সবুজ বাগান গড়ে তোলা
ছাদে গাছপালা থাকলে তা প্রাকৃতিকভাবেই তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। টবের গাছ কিংবা ছাদকৃষি—দুই ক্ষেত্রেই মাটি ও উদ্ভিদ সূর্যের তাপ সরাসরি ছাদে পড়তে বাধা দেয়। পাশাপাশি গাছে পানি দেওয়ার ফলে ছাদও কিছুটা শীতল থাকে। পরিবেশবান্ধব এই পদ্ধতি শুধু ঘর ঠান্ডা রাখে না, বরং বাড়ির সৌন্দর্যও বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
গরমপ্রবণ এলাকায় ছাদের তাপ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদ্ধতি একসঙ্গে ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। তাপ প্রতিরোধী রং, নিরোধক আবরণ এবং ছাদবাগানের সমন্বয় ঘরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম। তাই গ্রীষ্মের দাবদাহে স্বস্তি পেতে ছাদের যত্নে এসব কৌশল প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। এতে বিদ্যুৎ খরচও কিছুটা কমবে এবং ঘর থাকবে তুলনামূলক আরামদায়ক।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
লাইফস্টাইল ডেস্ক 








