প্রতিবছর ঈদে কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে সিলেটে। এ বছর ঈদের ছুটি পড়েছে টানা সাতদিন। এর দুদিন বিরতিতে আবার ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও পরের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে তিনদিন ছুটি থাকছে। সবমিলিয়ে এবার লম্বা ছুটি। ফলে আরও বেশি পর্যটকের প্রত্যাশা করছেন সিলেটের হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা। আর পর্যটকদের বরণে নানারকম প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্টদের আশা, ঈদের এই ছুটিতে অন্তত ৮-১০ লাখ পর্যটক আগমন ঘটবে সিলেটে। এতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন এ খাতের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, ইতোমধ্যে সিলেটের অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টে বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। মন্দা কাটিয়ে পর্যটন খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে প্রত্যাশা তাদের।
একাধিক হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ি জানান, গত রবিবার পর্যন্ত অনেক হোটেলের ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। তাদের ধারণা, ঈদের আগে আগেই শতভাগ বুকিং হয়ে যাবে।
এদিকে পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে হোটেল মোটেল রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ভাসমান দোকান সবখানে শেষ হয়েছে মেরামত কিংবা সাজ-সজ্জার কাজ।
জানা গেছে, ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বরাবরই পছন্দের শীর্ষে থাকে সিলেটের জাফলং, সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, রাতারগুল এবং মাধবকুন্ড। পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি ও স্বচ্ছ পানির মেলবন্ধন এই অঞ্চলকে পর্যটকদের কাছে করেছে অনন্য আকর্ষণীয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঈদে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ৮ থেকে ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে। তবে, এবারও সিলেটের জাফলং এবং সাদা পাথরে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উৎপল কুমার চৌধুরী। তিনি জৈন্তা বার্তাকে জানান, ঈদে সিলেটের সবগুলো স্পটে অতিরিক্ত পর্যটক আসবে। তাদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ টহল জোরদার, সাদা পোশাকে নজরদারি। বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযোগ বক্স স্থাপনসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স গ্রুপের সাবেক সভাপতি সুমাত নূরী চৌধুরী জুয়েল বলেন, ঈদকে ঘিরে সিলেটে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে। এরইমধ্যে বেশরভাগ হোটেল-মোটেলে ৮০ শতাংশের উপরে সিট বুকিং হয়ে গেছে। আজ-কালের মধ্যে শতভাগ বুকিং হয়ে যাবে। আশা করছি, ঈদে এ খাতে ভালো ব্যবসা হবে।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, ঈদের ছুটিতে ৮ থেকে ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ এবং যানবাহনে যাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় না করা হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ জানান তিনি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ঈদের ছুটিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকের কাছ থেকে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায় এবং রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের দাম যেন বাড়ানো না হয়, সেসব তদারকির জন্য একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামানো হবে। পর্যটক হয়রানি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








