কৃষকের শেষ ভরসা কীটনাশক
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৪ PM

কৃষকের শেষ ভরসা কীটনাশক

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮/০৩/২০২৬ ০১:০৬:১৯ PM

কৃষকের শেষ ভরসা কীটনাশক


শেষ ভরসার দিকে এগুচ্ছেন কৃষক! খরার কারণে কিংবা অনাবৃষ্টির ফলে নানান ধানের পোকা থেকে মুক্তি পেতে নিজের জমিতে কীটনাশক ছিটিয়েও মিলছে না স্বস্তি। এতে করে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাদের কপালে।

মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার বোরো ধানের জমিতে দেখা দিয়েছে মাজরা পোকা। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য কীটনাশক স্প্রে করছেন কৃষকেরা। অনাবৃষ্টি ও পানির সংকট থাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে এই সমস্যা।

কৃষকেরা স্থানীয় কৃষি ঘর ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। এতে করে সেচ খরচের পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত বোরো ধানের ফলন নিয়ে বাড়তি চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

জেলার কৃষকেরা বলেন, ধানের চারা রোপণের কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই এখন পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। মাজরা পোকার সঙ্গে এক ধরনের পোকা ধান গাছের ডিগ পাতা কেটে দিচ্ছে। এছাড়া আরও রোগবালাই দেখা দিয়েছে। পোকা নিধনের জন্য কীটনাশক স্প্রে করলেও কাজ হচ্ছে না। এছাড়াও অনেক কৃষকের ধানগাছ লাল হয়ে যাচ্ছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বোরো ধানের চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে কিছু জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। যেসব ধান গাছের ডিগ পাতা পোকায় কেটে দিচ্ছে, সেগুলো আবার গজিয়ে উঠবে। পোকার আক্রমণ থেকে ধানগাছ রক্ষা করার জন্য কৃষি অফিস থেকে সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে জেলার বোরো ধানের খেত ও কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ বোরো ধানের খেত কালচে রং ধারণ করেছে। অনেক কৃষক অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সেচের ব্যবস্থা করলেও এখন পোকার আক্রমণে চিন্তায় পড়েছেন। ধান গাছ রক্ষার জন্য অনেকেই কীটনাশক দিচ্ছেন। যেসব জমিতে সেচ সংকটের পাশাপাশি পোকায় আক্রান্ত হচ্ছে, এসব জমির ধান গাছ নষ্ট হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কপালে কী হবে—এ নিয়ে অনেক কৃষকের মাঝে হতাশা দেখা গেছে।

কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে ২ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। দূর থেকে সেচের ব্যবস্থা করেছি। এতে অতিরিক্ত টাকাও দিতে হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ধান খেতে মাজরা পোকার আক্রমণ হয়েছে। ইতোমধ্যে একবার ওষুধ দিয়েছি। এখন আবার দিতে হবে। এমনিতেই বীজতলা থেকে শুরু করে হালচাষ, চারা রোপণ ও সেচ খরচ আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের শামিম আহমেদ বলেন, মাজরা পোকা ধান গাছের ডিগ পাতা কেটে দিচ্ছে। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়া এবং ধীরে ধীরে গরমের তীব্রতা বাড়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর একটু বেশি পোকা আক্রমণ করেছে। একরপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে যদি ধান না পাওয়া যায়, তাহলে আমার মতো কৃষকেরা হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছু নেই।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, বোরো ধানে পোকা আক্রমণ করেছে। এ নিয়ে চিন্তিত না হয়ে কৃষকদের সঠিকভাবে ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা আছেন, তাদের বলা হয়েছে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য। যেসব ধান গাছের ডিগ পাতা পোকা কেটে দিচ্ছে, সেসব ধান গাছ আবার গজিয়ে উঠবে। এই জেলায় এবার আমন ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে বলে আশা করি।

যদি কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটে, তাহলে এ জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর