কী আছে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্যে?
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১২ PM

কী আছে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্যে?

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩/০৩/২০২৬ ১২:৪৫:১৪ PM

কী আছে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্যে?


চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে বিদায় হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। বাধ্য হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের অনেকে পালিয়ে যান পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার একদিন পর রাষ্ট্রপতি এক আদেশের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। এরপর ওই বছর ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্রহণ করে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবসান ঘটে।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের আইনগত কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে এই সরকারের প্রায় ১৮ মাস মেয়াদে যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যাদেশ রয়েছে।

আবার কিছু অধ্যাদেশ দিয়ে বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থা সংশোধন করা হয়েছে। যার মধ্যে এমন কিছু অধ্যাদেশ রয়েছে, যা খুবই নীতিনির্ধারণীমূলক। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অধ্যাদেশ হয়তো সময়ের প্রয়োজনে জারি করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে অনেক অধ্যাদেশ রয়েছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করার কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল না।

কী আছে এসব অধ্যাদেশে?
অন্তর্বর্তী সরকার যেসব অধ্যাদেশ জারি করেছে, তার মধ্যে একটি হলো, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ। যেই সংশোধনীর মাধ্যমে এই ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতায় চব্বিশের আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডসহ বিগত সময়ের গুম সংক্রান্ত বিচারকে আওতাভুক্ত করা হয়েছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনটি একাধিকবার সংশোধন হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব সংশোধনের ওপর ভিত্তি করে একাধিক মামলার রায়ও হয়ে গেছে।

এছাড়া শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সুপ্রিম কোর্টের দলবাজ বিচারকদের অপসারণে আন্দোলন হয়। সেসময় আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারক পদত্যাগ করেন। এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগ থেকেও ডজনেরও বেশি বিচারককে পাঠানো হয় ছুটিতে। উচ্চ আদালতে বিচারকের শূন্যতা পূরণে ‘সুপ্রিম কোর্ট জাজেস অ্যাপয়েন্টমেন্ট অর্ডিন্যান্স’ জারি করা হয়। অধ্যাদেশটি সংসদে গৃহীত হওয়ার আগেই এই আইনে উচ্চ আদালতে অনেক বিচারক নিয়োগ করা হয়েছে।

এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর জনমত যাচাইয়ে যে গণভোট নেয়া হয়েছে, সেই গণভোটও নেয়া হয়েছে অধ্যাদেশের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সরকার দল বিএনপি সংবিধানের বাইরে গিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেনি। এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

কিছু অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা ও অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের আওতাভূক্ত ছিল কি না—এ নিয়ে যেমন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তেমনি প্রয়োজনীয় কিছু অধ্যাদেশও জারি করা হয়েছে। যেমন: বিচার বিভাগের জন্য পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির জন্য বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক সরকারসমূহ দুই যুগের বেশি সময়ে এই সচিবালয় গঠন করেনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনগতভাব দায়মুক্তি দিতে জারি করা হয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’। এই অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এ ধরনের দায়মুক্তি সংবিধান ও আইনি কাঠামোতে কতটুকু রক্ষণীয় হবে সে নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

এর বাইরে পুরনো কিছু আইন প্রণয়ন ও কিছু আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। যেমন—গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিধান, জাতীয় আইনগত সহায়তা আইন সংশোধন করে ৯ ধরনের মামলার আগে বাধ্যতামূলকভাবে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মধ্যস্থতার বিধান, পাঁচ লাখ টাকার কম মূল্যমান চেকের মামলার বিচার প্রথম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা, বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের আলাদা শাস্তি নির্ধারণ, দেওয়ানি কার্যবিধিতে সমন জারির প্রক্রিয়াসহ বেশ কিছু বিধানের সংশোধনের মতো আইনগত বিষয়।

রুটিন মাফিক কাজ করতে গিয়ে বাজেট ঘোষণা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এর বাইরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইন সংশোধন করে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে প্রশাসক বসানো হয়। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, প্রতিনিধিদের অনেকেই পালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। বিভিন্ন স্থাপনা ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম পরিবর্তন করতেও বেশ কিছু আইনে সংশোধনী আনতে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

সরকারের ওয়েবসাইট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৪ সালে মোট ১৭টি, ২০২৫ সালে ৮০টি এবং ২০২৬ সালে ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে ৯২টির মাধ্যমে পূর্ববর্তী আইন সংশোধন করা হয়। একই আইনে একাধিকবার সংশোধনী আনতে একাধিক অধ্যাদেশের নজিরও আছে। যেমন—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে একাধিকবার সংশোধনী এনে তিনটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে সংশোধনী সংক্রান্ত একাধিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। পূর্ববর্তী আইন রহিত করতে জারি করা হয়েছে তিনটি অধ্যাদেশ। আর নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে জারি করা হয়েছে ৩৮টি অধ্যাদেশ। যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার মতো বিষয় রয়েছে।

সংবিধানে যা বলা হয়েছে
সংসদের অধিবেশন না থাকলে বা সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে এই অধ্যাদেশে জারির ক্ষমতা দিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী এসব অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস হতে হবে। না হয় অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে লোপ পাবে অধ্যাদেশের কার্যকারিতা।

এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ৯৩। (১) [সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত] কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন এবং জারী হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে-

তবে রাষ্ট্রপতির এই অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা অবারিত নয়। এই অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে,
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন কোন অধ্যাদেশে এমন কোন বিধান করা হইবে না, (ক) যাহা এই সংবিধানের অধীন সংসদের আইন-দ্বারা আইনসঙ্গতভাবে করা যায় না;

(খ) যাহাতে এই সংবিধানের কোন বিধান পরিবর্তিত বা রহিত হইয়া যায়; অথবা

(গ) যাহার দ্বারা পূর্বে প্রণীত কোন অধ্যাদেশের যে কোন বিধানকে অব্যাহতভাবে বলবৎ করা যায়।

অধ্যাদেশ সংসদে গৃহীত হওয়ার বিধান সম্পর্কে এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, (২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারি হইবার পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে তাহা উপস্থাপিত হইবে এবং ইতঃপূর্বে বাতিল না হইয়া থাকিলে অধ্যাদেশটি অনুরূপভাবে উপস্থাপনের পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইলে কিংবা অনুরূপ মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে তাহা অননুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হইলে অধ্যাদেশটির কার্যকরতা লোপ পাইবে।

(৩) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থার কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট ব্যবস্থা-গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি এমন অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন, যাহাতে সংবিধান-দ্বারা সংযুক্ত তহবিলের উপর কোন ব্যয় দায়যুক্ত হউক বা না হউক, উক্ত তহবিল হইতে সেইরূপ ব্যয়নির্বাহের কর্তৃত্ব প্রদান করা যাইবে এবং অনুরূপভাবে প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার সময় হইতে তাহা সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে।

(৪) এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন জারীকৃত প্রত্যেক অধ্যাদেশ যথাশীঘ্র সংসদে উপস্থাপিত হইবে এবং সংসদ পুনর্গঠিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে এই সংবিধানের ৮৭, ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদ সমূহের বিধানাবলী প্রয়োজনীয় উপযোগীকরণসহ পালিত হইবে।

সরকার যা বলছে
আগামী ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। সেই অধিবেশনেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হবে। এ বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে যতগুলো অধ্যাদেশ হয়েছে, প্রত্যেকটা অধ্যাদেশই আমরা বিল আকারে পেশ করবো। সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে করা ১৩৩ অধ্যাদেশের প্রত্যেকটিই পেশ করা হবে।

তবে ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশসমূহ নিয়ে আইনগত ও সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও এর উপর জনমত যাচাইয়ের জন্য গণভোট অধ্যাদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের হয়েছে। সোমবার (০২ মার্চ) সেই রিটের উপর বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের আদালতে শুনানি শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
এত অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক সংখ্যক অধ্যাদেশ জারির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। কোনো কোনো অধ্যাদেশ জারির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সংবিধানে বর্ণিত সীমা অতিক্রম করেছেন বলেও মনে করেন তারা।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক মতে, এই অধ্যাদেশগুলো স্বল্পমেয়াদি। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর, অর্থাৎ পরবর্তী সংসদের অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে, সব অধ্যাদেশই বিলোপ হয়ে যাবে। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা কোনো বিচারেই মোক্ষম ব্যবস্থা নয়। এই অধ্যাদেশগুলোর অধীনে কিছু কার্যক্রম, পদক্ষেপ, নিয়োগ বা পুরোনো কোনো কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। তবে এই অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেলে, এসব অধ্যাদেশের অধীনে সূচিত বা গৃহীত কার্যক্রমের পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে নিকট ভবিষ্যতে প্রচুর তর্কবিতর্ক হবে।

তবে রাজনীতি বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন মনে করেন, অধ্যাদেশসমূহ গৃহীত না হলেও বিলুপ্ত হওয়ার আগের কাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নাই। কারণ অধ্যাদেশসমূহ যখন গৃহীত হয়েছে, তখন সংবিধান অনুযায়ী তার কার্যকারিতা আইনের মতোই ছিল। শুধু এই অধ্যাদেশের আলোকে পরবর্তীতে আর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, সংসদের সামনে এক্ষেত্রে কয়েকটি উপায় রয়েছে। যেমন, অধ্যাদেশটি যেভাবে জারি করা হয়েছিল সেভাবেই অধ্যাদেশ আকারে গ্রহণ করতে পারে। ইতোপূর্বে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশসহ অনেক অধ্যাদেশ এভাবে সরাসরি সংসদে গৃহীত হওয়ার নজির আছে। আবার সংসদ যদি মনে করে তারা এই অধ্যাদেশসমূহে কিছু পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করবে, নতুন করে আইন প্রণয়নের জন্য বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করবে, সেটাও করতে পারে। সংসদ অধ্যাদেশসমূহকে নিজেই বাতিল করে দিতে পারে। আবার সংসদে অধ্যাদেশ গৃহীত না হলে একটা সময়ের (অধিবেশন শুরুর ৩০ দিন) পর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এর কার্যকারিতা লোপ পাবে।

তবে গণভোট বা জুলাই সনদ আদেশের মতো বিষয়গুলোর আইনগত প্রশ্ন উঠাটা স্বাভাবিক বলেও মনে করেন অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, যেহেতু ৯৩ অনুচ্ছেদে বলাই আছে, সংবিধানের কোনো বিধান পরিবর্তন বা রহিত হয়ে যায় এমন কোনো বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কোনো অধ্যাদেশ জারি করতে পারবেন না। তাই গণভোট অধ্যাদেশের মাধ্যমে জনমত যাচাই ও সংবিধান সংশোধনের জন্য আইনসভার ওপর বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করার সাংবিধানিক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ছিল কি না, সে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সব প্রশ্নের উত্তর এখন সংসদ যেভাবে গ্রহণ করবে সেভাবেই হবে।

যদিও সংসদে গৃহীত হলেই অধ্যাদেশসমূহ স্থায়িত্ব লাভ করেছে বলে মনে করেন না সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। তিনি বলেন, সংসদ অধ্যাদেশসমূহ গ্রহণ করলেও উচ্চ জুডিশিয়াল রিভিউর (বিচারিক পর্যালোচনা) সুযোগ থাকছে। যে কোনো নাগরিক সংসদে গৃহীত আইন সংবিধান সম্মত কিনা, সেই ব্যাপারে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেন। ইতোপূর্বে উচ্চ আদালতে সংসদ কর্তৃক গৃহীত অনেক আইন এমনকি সংবিধানের সংশোধনীও বাতিলের নজির আছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর