নদী খনন না হলে কৃষিজমিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে- এমন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। কুশিয়ারা নদীর উপশাখা ও কুদালিয়া নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার সদর বিরাট, জলসুখা ও শিবপাশা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একসময় খরস্রোতা ছিল কুশিয়ারা নদী ও কুদালিয়া নদী। এসব নদীই ছিল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। বর্তমানে দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদী প্রায় শুকিয়ে বিস্তীর্ণ মাঠের মতো দৃশ্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নেমে যাওয়ায় সেচনির্ভর বোরো চাষে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা অনেকাংশে বোরো, আমন ও আউশ ধানের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে বোরো সম্পূর্ণ সেচনির্ভর। নদী ও বৃষ্টির পানির অবদান কমে যাওয়ায় কৃষকদের এখন মূলত গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত সেচ মিলছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদ্য রোপণ করা ধানের চারা বড় হতে শুরু করলেও প্রয়োজনীয় সেচ না পাওয়ায় অনেক জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ধানের চারা শুকিয়ে মারা যাচ্ছে।
জলসুখা গ্রামের কৃষক শিব্বির মিয়া ও লাল মিয়া জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাত অনেক কম হয়েছে। কার্তিক মাস থেকেই হাওরে পানির টান শুরু হয়। ফলে অনেক জমি পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, দ্রুত নদী খনন না হলে ভবিষ্যতে কৃষি কাজে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এমনকি নদী-নালা ও শাখা খাল খনন না করলে গভীর নলকূপও অচল হয়ে পানিসংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে খাল ও নদী খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো জনগণের চাহিদা জানা। জনগণের কাছ থেকে প্রাপ্ত নদী ও খালের তালিকা সংরক্ষণ করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অগ্রাধিকারভিত্তিতে জরুরি নদীগুলো আগে খনন করা হবে। বাকি নদীগুলো পর্যায়ক্রমে খননের আওতায় আনা হবে।
হাজারো কৃষকের দাবি, কুশিয়ারা ও কুদালিয়া নদী দ্রুত খনন করা হলে তিন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে সেচ নিশ্চিত হবে এবং সম্ভাব্য ফসলহানি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








