এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন সিলেট সদর উপজেলার দলদলি চা বাগানের দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সুস্মিতা দাস। সে প্রমাণ করেছে দারিদ্র্যে কখনো স্বপ্ন কে আটকাতে পারে না। বাবা হচ্ছেন প্রতিবন্ধী , মা চা বাগানে কাজ করেন । থাকার বাড়ি টাও ভাঙ্গা চুরা জরাজীর্ণ , বিদুৎ চলে গেলে তেমন কোন আলোর ব্যবস্থাও নেই ঘরে। পড়াশোনা করার মতো নেই ভালো কোন চেয়ার বা টেবিল। কিন্তু সেই ঘরের বিছানাতেই বসে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সুস্মিতা চা বাগানে দেখালেন সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সুস্মিতা পড়াশোনা করেছেন ইউসেপ সোলেমান চৌধুরী বালুচর টেকনিক্যালে । এবার ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ভোকেশনাল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সফলভাবে উত্তির্ন হয়েছে। মায়ের একটাই স্বপ্ন-ভবিষ্যতে মেয়েকে নার্স বানিয়ে দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাড় করানো।
সুস্মিতা দাস “রেজাল্ট বের হওয়ার পর প্রথমেই জড়িয়ে ধরেছিলেন শিক্ষক এবং তার সহপাঠীদের । সুস্মিতা মাঝখানে অভাবের তাড়নায় ছয় বছর পড়াশোনা করতে পারে নি অবশেষে পরীক্ষা দেয়ার আগে অসুস্থ হয়ে যায় তারপরও নিজের পরিবারের চেষ্টা ও তীব্র মনোবল নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন কিন্তু তার ভাই টাকার জন্য এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারে নি অভাবের জন্য তবুও বোনকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন ছয় বছর পর । জিপিএ -৫ পাওয়ার কথা শোনে এলাকার অনেক মানুষ এখন আমাদের বাড়িতে আমাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। তবে পরিবারকে সহযোগীতা করতে এবং নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে মাঝে মধ্যে রাত জেগে কাপড় সেলাই করতো কিন্তু সকালে ক্লাসে যেতে দেরী হতো প্রায় সময় তখন স্যাররা বকাবকি করতো কিন্তু কখনো সে তার অভাবের কথা বলে নি। পরীক্ষা দেয়ার আগে অসুস্থ হলে শিক্ষক সহ আত্মীয়রা সহযোগিতা করে তার চিকিৎসার জন্য।
সুস্মিতার মা বলেন,আমি দীর্ঘদিন থেকেই অনেক অসুস্থ ঠিকমতো কাজ করতে পারিনা। বাগানে কাজ করে পাঁচ দশটাকা জমিয়ে মেয়েকে লেখাপড়া করানোর চেষ্টা করেছি।
মেয়ের পরিক্ষার সময় তাকে ঠিক মতো খাওয়াতেও পারিনাই ঠিকমতো টাকা দিয়ে কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারিনি। আমার মেয়ে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে ।
স্থানীয় প্রতিবেশী মনোরঞ্জন দাস বলেন , “ওর বাবার অবস্থা খুব খারাপ অনেক দিন থেকেই অসুস্থ , কিন্তু পড়াশোনার প্রতি মেয়েটার মনোবল অনেক বেশি। আসলে সুস্মিতা আমাদেরকে আনন্দিত করেছে। আমাদেরকে জানিয়ে দিলো দরিদ্র কখনো পড়াশোনায় বাধা হতে পারে না।যদি নিজের মনোবল ঠিক থাকে।
আজকের সিলেট/এপি
মো: ফারুক মিয়া 








