গোয়াইনঘাট উপজেলায় মাঘের শুরুতে উপরের জমিতে বোরোধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। কিন্তু বাধ সেধেছে প্রকৃতি। গত কয়েকদিন থেকে দেখা মিলছে না সূর্যের। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু অবস্থা। তবু্ও থেমে নেই উজেলার কৃষকদের কর্মযজ্ঞ।
গোয়াইনঘাট উপজেলার আবাদি জমিতে ৪৮ হাজার ৫০০ শতের অধিক কৃষক পরিবার বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করেন। তবে বেশিরভাগ কৃষক আমন ও ইরি-বোরো মৌসুমে বছরে দু’বার প্রধান ফসল হিসেবে জমিতে ধান চাষাবাদ করে জীবন-জীবিকায় টিকে আছেন। জমিতে চাষাবাদ করতে প্রকৃতির সাথে চলছে এ অঞ্চলের কৃষকের অবিরাম লড়াই। এবারের বোরো মৌসুমে তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ সহকারি কর্মকর্তা জীবনকৃষ্ণ রায় জানান, উপজেলায় এবারে ১০ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চারার চাহিদা পূরণের জন্য প্রায় ৫৪৩ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিচু অঞ্চলের ৭৮৩০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা জমিতে চারা রোপণ করছেন। তারা আরও জানান, শীতের তীব্রতায় চারার কোল্ড ইনজুরি থেকে বীজতলা বাঁচাতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে জমিতে বোরোধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। কেউ বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প চালু করে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। কেউ আবার পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করে নিচ্ছেন। অনেকে কনকনে ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে জমির কাদাপানিতে নেমে মই টানছেন। কৃষি শ্রমিকরা কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে বীজতলা থেকে চারা তুলে বিকাল পর্যন্ত জমিতে রোপণ করেছেন। সব মিলিয়ে শীতকে উপেক্ষা করে বোরোধান চাষাবাদ করতে ফসলের মাঠে শুরু হয়েছে কৃষকদের কর্মযজ্ঞ।
উপজেলার কয়েকজন কৃষকরা জানান, জমিতে আগাম চারা রোপণ করলে ফলন ভালো হয়। তাই শীতকে উপেক্ষা করে জমিতে চারা রোপণ করছেন। তবে শীতের তীব্রতার কারণে পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক না থাকায় তারা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি চারা রোপণ কাজ শেষ করতে পারেন নাই। শীতের ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তো আর চলবে না। ‘শীতের মৌসুম, শীত তো থাকবেই। প্রতিবছরই পৌষের শেষ থেকে মাঘের মাঝামাঝি সময়ে জমিতে বোরোধানের চারা রোপণ করেন। এই সময়ে জমিতে চারা রোপণ করলে ফলন ভালো পাওয়া যায়। তাই এবারেও চারা রোপণ শুরু করেছেন। আশা করছেন এবারেও ভালো ফলন পাবেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার রায়হান পারভেজ রনি বলেন, তীব্র শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা জমিতে চারা রোপণের কাজ শুরু করেছেন। শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় বীজতলা বাঁচাতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। শীতের তীব্রতা কমলে দ্রুত সময়ে কৃষকরা জমিতে চারা রোপণ কাজ শেষ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। কৃষকদের আগ্রহ দেখে বুঝা যাচ্ছে উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো চাষাবাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি জানান, এবছর বোরো ধান আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ১০১৫ হেক্টর। এপর্যন্ত অর্জন হয়েছে ৭৮৩০ হেক্টর। হাওর এলাকার বোরো ধান রোপন কাজ প্রায় শেষ বর্তমানে উপরের জমিতে কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপন কাজ শুরু করেছেন।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এসটি
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে 








