হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক উপ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ পুলিশের তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার নিউটন দাশ সবুজের অত্যাচারে একটি পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দলীয় ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছেন গত ২০ বছর ধরে।
শনিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার কাগাপাশ ইউনিয়নের সেকান্দরপুর গ্রামের জুগেশ চন্দ্র দাশের ছেলে জগদীশ দাশ ভৈরব।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিউটনের পরিবারের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয় ২০০৪ সালর ১৪ মে। ওইদিন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নিউটন দাশ সবুজ গংদের সাথে আমাদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আমিসহ আমার পক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হই। বেশ কিছুদিন আমরা চিকিৎসা নিয় সু্স্থ হই। তবে আমি এখনও পুরাপুরি সুস্থ হতে পারিনি। আমি গুরুত্বর আহত হওয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় আমার ভাগিনা পরিতাষ দাশ বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় মামলা করেছে। মামলা নং-জিআর ২৬৫/০৪।
মামলটি ২০১২ সালে যখন বিচারাধীন অবস্থায় তখন মামলার ১৫ নম্বর আসামি নিউটন দাস সবুজ দলীয় প্রভাব খাটিয় এটি রাজনৈতিক মামলা দেখিয়ে হবিগঞ্জ কার্টের তৎকালীন পিপির মাধ্যমে বাতিল করিয়ে নেয়। পিপি কার্যালয় থেকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, হবিগঞ্জকে প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়- ‘সবুজ দাস ওরফে নিউটন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মিডিয়া সেন্টারের সিলট বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেদ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। মামলার অন্যান্য আসামীগণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযাগী সংগঠনের লাক। এমতাবস্থায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সূত্রে বর্ণিত মামলাটি প্রত্যাহার করার অনুমতি দানে মার্জি হয়।’
চিঠি দেওয়ার পর বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আমাদের মামলাটি বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে আমরা মামলা বাতিলের বিপক্ষে হাইকার্টে রিট পিটিশন দাখিল করি। বর্তমান মামলাটি হাইকার্ট শুনানী পর্যায়ে রয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নিউটন দাস সবুজ আমাদের ওপর অত্যাচারের স্টীম রুলার চালিয়েছে। ২০১৬ সালে ৩৫ তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডার চাকরি হওয়ার পর সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। কথায় কথায় আমাদের উপর নির্যাতন চালায়। মিথ্যা মামলা দিয় হয়রানি করে। সে বারবার পুলিশ পাঠিয়ে আমাদেরকে হুমকি দিয়েছে। তার লাকজন দিয়ে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। কোন জায়গায় অভিযোগ নিয়ে গেল কেউ আমাদেরকে পাত্তা দেয়নি। নিউটন দাস সবুজের ভয়ে কেউ আমাদেরকে সহযোগিতা করতে আসনি। একতো দলীয় প্রভাব, অন্যদিকে পুলিশের বড় কর্মকর্তা হওয়ায় নিউটন আমাদেরকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে আসছে।
একইভাবে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪ শুক্রবার নিউটন দাস গ্রামে আসে এবং আমাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। সে বলে, ‘এবার আমি সিলেট রেঞ্জ আসতেছি। তারপর তুদেরকে দেখে নেব।’
ইতোমধ্য তার নির্যাতনের কারণে আমি ও আমার পরিবার সামাজিক, মানষিক ও অর্থনৈতিকভাব ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সিলেট, ঢাকা ও ভারতের মাদ্রাজে আহতদের চিকিৎসা করতে গিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। আমার সর্বস্ব ব্যায় হয়ে যাওয়ার কারণে আমার সন্তানাদির ভবিষৎ এখন অন্ধকার।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী শাসনামলে নিয়াগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডার নিউটন দাস সবুজের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ১৫/০৯/২০২৪ইং তারিখ অভিযোগ দাখিল করেছি। ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ আমি ও আমার পরিবার ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছি।
আজকের সিলেট/ডি/এপি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 








