ঘষামাজাতেই আটকে আছে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ PM

ঘষামাজাতেই আটকে আছে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ

শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১/১২/২০২৪ ১০:০৪:১৬ AM

ঘষামাজাতেই আটকে আছে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বোরো আবাদ শুরু হলেও নামমাত্র কয়েকটি বাঁধে ঘষামাজা ছাড়া এখনও হাওরের অধিকাংশ ফসলরক্ষা বাঁধে মাটি ফেলার কাজ শুরু হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। তবে এবার তা হয়নি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। এর আগে দুটি বাঁধে লোক দেখানো উদ্বোধন হলেও কাজের কোন চিহ্ন নেই। যেন উদ্বোধনেই থমকে আছে বাধেঁর কাজ। ফলে দুশ্চিন্তা নিয়ে বোরো ধান রোপণ করছেন কৃষকরা। ক্ষুব্ধ কৃষকদের দাবী দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন হাওরের বাঁধের কাজ সমাপ্ত করা হয়।

সরেজমিন উপজেলার দেখার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, উদ্বোধনের দু সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোন বাঁধেই কাজের কোন চিহ্ন নেই। দেখা মেলেনি পিআইসি কমিটির কাউকে। কোন বাঁধে নেই সাইনবোর্ড কিংবা বাঁধ নির্মাণের কোন সরঞ্জাম। ঝুকিপূর্ণ উথারিয়া ক্লোজারেও কাজ করার কোন ধরনের প্রস্তুতি নেই।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, শুধু দেখার হাওরেই নয় উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের কিছু বাঁধে হালকাভাবে ড্রাম ট্রাক চলাচলের জন্য রাস্তার কাজ করলেও অধিকাংশ বাঁধেই মাটি ফেলার কাজ শুরু হয়নি। এতে আগাম বন্যায় অথবা প্রাকৃতিক দূর্যোগে ফসল হানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাওর পাড়ের কৃষবরা।

জানা যায়, প্রতি বছরই আগাম বন্যা থেকে হাওরের বোরো ধান রক্ষা করার জন্য নির্মাণ করা হয় ফসলরক্ষা বাঁধ। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর শান্তিগঞ্জের ৬৪ টি বাঁধ নির্মাণের জন্য ৯ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে এখনো দু একটি ছাড়া অন্য কোন বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন হাওরের কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, প্রতিবছর হাওরের বাঁধ নিয়ে কৃষকদের চিন্তিত থাকতে হয়। কোনো বছরই বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময় শেষ হয় না। ফলে আগাম বন্যায় হাওরের ধান নষ্ট হয়। এ বছরও আগের মত দু একটি বাঁধে  নাটকীয় উদ্বোধন করে ফেলে রাখা হয়েছে কাজ। এখনও কাজ করার কোন নামই নেই।

এদিকে, সুনামগঞ্জে হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধের কাজ সময়মতো শুরু না হওয়া ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন কাজ শেষ না করার প্রতিবাদে হাওর বাঁচাও আন্দোলন গত সপ্তাহে সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে মানববন্ধন করে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন তারা।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মমিন মিয়া বলেন, উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আংশিক কাজ শুরু হলেও অধিকাংশ হাওরে পানির জন্য কাজ শুরু হয়নি। জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে পুরোদমে কাজ শুরু হবে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা কাবিটা স্ক্রীম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুকান্ত সাহা বলেন, যে সকল বাঁধে এখনো কাজ শুরু হয়নি তাদেরকে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য তাগিদ দেয়া হবে। জানুয়ারী থেকে সকল হাওরে পুরোদমে বাঁধ নিমার্ণ কাজ চলবে।

সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড পওর-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ইমদাদুল হক বলেন, সরেজমিন বাঁধগুলো পরিদর্শণ করে কাজের অগ্রগতির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর