৫৩ বছরেও পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পনননি বজলুর রহমান
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ PM

৫৩ বছরেও পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পনননি বজলুর রহমান

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১/১২/২০২৪ ১০:০২:০২ AM

৫৩ বছরেও পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পনননি বজলুর রহমান


গত কয়েক বছর যখন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে স্বীকৃতি আদায়, ভাতাগ্রহণসহ নানা অভিযোগ ছিলো তখন অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাই স্বীকৃতির আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছেন। তেমনি একজন বজলুর রহমান। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য বিগত সরকারের কাছে ৮ বছর ঘুরেছেন দোয়ারাবাজার উপজেলার বাশতলা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী বজলুর রহমান।

৫ নং সেক্টরে যাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তারাও প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। সুপারিশও ছিলো বহুজনের। কিন্তু হতদরিদ্র বজলুর রহমান স্বীকৃতি পাননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দফতরসহ বহু জায়গায় আবেদন নিবেদন করেও কোনো সাড়া পাননি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পিতা-মাতা ভাই-বোনকে হারানো বজলুর রহমানের জিজ্ঞাসা জীবদ্দশায় কি তার মুল্যায়ন হবে?

এই মুক্তি সংগ্রামী বজলূর রহমানের মূল বাড়ি সুনাগঞ্জের পশ্চিম পাড়ায়। তাঁর পিতার নাম কফিল উদ্দিন ও মাতার নাম গোলাপজান বেগম। সেখানে লাল-নীল-সবুজ নামে তিন ভাই ছিলো, তাদের বাড়িতেই ছিলো তাঁর নিবাস। স’মিলের পেছনে সেই বাড়িতে তারা আজও আছেন। সেখান থেকে সিলেট নগরে এসে বসবাস করছেন। বর্তমানে নগরের খুলিয়াপাড়ায় আছেন পরিবার নিয়ে। দিনমজুরের কাজ করে জীবনভর সংসার চালিয়েছেন। এক ছেলে দুই মেয়ের সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বর্তমানে তিনি বড়ই অসহায় জীবন যাপন করছেন বলে জানালেন এ প্রতিবেদককে।

মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি আদায়ের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিরূপায় হয়ে গত মঙ্গলবার এসেছিলেন সুবিদবাজারে সিলেট প্রেসক্লাবে। কেউ একজন তাঁকে বলেছে বিষয়টি পত্রিকায় লিখাও। তাই তার আগমন। সে সময় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বজলুর রহমানের। ৬৫ বছর বয়সে জীবনের এ প্রান্তে এসে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠা বজলুর রহমান যতক্ষণ এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলছিলেন ততক্ষণই তার চোখের কোনে জলরাশি ছলছল করছিলো।

বাবা-মা, ভাই-বোন হারানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাদেরকে নিয়ে ভারতের আগরতলা থেকে সুনামগঞ্জে আসেন। তাঁর বয়স তখন ১১ বছর ছিলো। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের শুরুতে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে চলে যান। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর দালালদের সহযোগিতায় তার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে খোঁজে না পেরে তাঁর পিতা-মাতা ভাই বোনকে মেরে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ শেষে দেশ যখন বাড়িতে ফেরে এ ঘটনা জানতে পারেন তখন তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তিন বছর পর সুস্থ হন। চলে আসেন সিলেট নগরে। এখানেই তাঁর বাকী জীবন কাটছে।

কারা ছিলেন তাঁর যুদ্ধদিনের সঙ্গী এমন প্রশ্নের জবাবে বজলুর রহমান বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলী, হাবিবুর রহমান সহ কয়েকজনের নাম মনে আছে। আমাদের কমান্ডার ছিলেন মেজর শওকত আলী। তারা সকলেই আমাকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে যে আমি যুদ্ধের ময়দানে ছিলাম তারা তা তুলে ধরেছেন। সরকারের কাছে সুপারিশও করেছেন। তাদের সবার লাল মুক্তিবার্তা’র নম্বরসহ উল্লেখ আছে প্রত্যয়ন পত্রে।

বজলুর রহমান আফসোস করে বলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকেই বলেছিলো নাম লেখাও। কিন্তু সেসময় এতো ভাবিনি। ঢাকা সিলেটে দৌড়াদৌড়ি করে কোনো লাভ হয়নি। শুধু টাকা খরচ হয়েছে। তাঁর প্রতি কেউ একটু দরদ দেখায়নি।

তিনি অন্তবর্তী সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, স্বীকৃতি পেলে সম্মানের সঙ্গে মরতে পারবো। সন্তানরাও একটা পরিচয় পাবে সমাজে। আর যদি রাষ্ট্রীয় সম্মান পাই তবে এ বয়সে একটু শান্তি পাবো। অন্ততঃ নিজের চিকিৎসার জন্য একটা সুযোগ সুবিধা পেতাম।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর