মধ্যনগর উপজেলায় আসতে চায়না ইউএনও, নেই কোন অবকাঠামো
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৫ AM

মধ্যনগর উপজেলায় আসতে চায়না ইউএনও, নেই কোন অবকাঠামো

অমৃত জ্যোতি, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ১৬/১০/২০২৪ ০৩:৩৬:২৫ AM

মধ্যনগর উপজেলায় আসতে চায়না ইউএনও, নেই কোন অবকাঠামো


সুনামগঞ্জের মধ্যনগর,চামরদানী,দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ও উত্তর বংশীকুন্ডা চারটি ইউনিয়ন নিয়ে যাত্রা শুরু করে নবগঠিত উপজেলা মধ্যনগর।যেখানে হয়নি উপজেলার নিজস্ব কোন অফিস।নেই স্থায়ী উপজেলা পরিষদের কার্যালয় ও পর্যাপ্ত লোকবল।বেশীরভাগ দপ্তরেই অতিরিক্ত দায়িত্বে চলে আংশিক সেবা।ইতিমধ্যে সর্বশেষ ধাপে এই উপজেলায় নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অবকাঠামো নির্মাণে দেরী হওয়ায় মধ্যনগর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং বিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবণে উপর নির্ভর করে ভোগান্তির মধ্যদিয়ে অস্থায়ী ভাবেই চলছে অফিসিয়াল কার্য্যক্রম।এসকল সমস্যার সম্পুর্ন সমাধান আসতে পারে শুধুমাত্র পুর্ণাঙ্গরূপে উপজেলার সচল হলেই। না'হয় যেকোন সময় থমকে গিয়ে "যেই লাউ সেই কদু" হতে পারে এমনটাই ধরনা করছেন উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দাগন।

২০২১ সালের ২৬ জুলাই যাত্রা শুরু করে উপজেলাটি। এরপরপরেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়ন করে কতৃপক্ষ।এবং ক্রমন্বয়ে চারজন ইউএনও নিয়োগকরা হলেও যোগদান করেন মাত্র দুজন।অন্যদুজন যোগদান না'করেই অন্যত্র বদলি নেন। এছাড়া বেশীরভাগ সময়ই অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন পাশ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি।

অনুসন্ধানে জানা যায় উপজেলাটির অবকাঠামো নির্মাণ, প্রয়োজনীয় দপ্তর ও পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার দরুন বারংবার নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়ন করা হলেও আসতে বা থাকতে চান'না তাঁরা। আসার আগেই খোঁজ নেন বাসস্থান সহ প্রয়োজনী সবকিছু আছে কিনা?

উপজেলার ২৪টি দপ্তরের অনুকূলে ২৩৮জন লোকবল থাকার কথা। কিন্তু এখানে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক দুজন, শিক্ষা কর্মকর্তা,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা,নির্বাচন কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী সহ ৯জন।আউটসোর্সিং ভাবে ১২জন সহ মাত্র ২১জন রয়েছেন।যু্ব উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা যোগদান করলেও মাত্র কয়েকদিন থাকার পরেই বদলি নিয়ে চলে যান অন্যত্র।

এছাড়াও জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মধ্যে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা,উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা,সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা,হিসাব সহকারী কর্মকর্তা,প্রকৌশলী,আনসার ভিডিপি,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা ,কৃষি,প্রাণী সম্পদ,মৎস সম্পদ,পরিবার পরিকল্পনা, মহিলা অধিদপ্তর,পল্লী উন্নয়ন, পরিসংখ্যান, মাধ্যমিক শিক্ষা,ফটোকপি অপারেটর সহ অসংখ্য পদের জনবল না থাকায় বিগ্নিত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সেবা এবং বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা এলাকার আর্তপীড়িত জনমানুষ।

সবশেষে চলতি বছরের ২৫শে সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ দর্শী চাকমা' সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বদলি জনিত কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি আবারো শূন্য হয়।এবং ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃগিয়াসউদ্দীন(ইউএনও) অতিরিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

মধ্যনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগণের মধ্যে বেশীরভাগ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।তালিকানুযায়ী উল্লেখ্য ৫জন বর্তমান সহ ৬জনের মধ্যে দুজন ছিলেন পুর্ণাঙ্গ দায়িত্বে,৩জন অতিরিক্ত ও একজন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।যা'বর্তমান সহ উপজেলার বয়সকালের প্রায় বেশীরভাগ কর্মকর্তাই অতিরিক্ত নির্বাহীর মাধ্যমে চলছে উপজেলার কার্যক্রম।

এমতাবস্থায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সময়ের দাবী দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়ন সহ প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যালয়,পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োজিত করা।সেই সাথে অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নবগঠিত উপজেলার সেবা মূলক সকল কার্য্যক্রম সচল রাখার জোরালো দাবী জানিয়েছে ভুক্তভোগী জনসাধারণ।

জনস্বার্থে ঢাকাস্থ ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উন্নয়ন ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব কুমার রায় চয়ন বলেন,আমরা উপজেলা পেয়েছি ঠিকই।তবে সব রকম সুবিধি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।আমি বুঝি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর যক্ষের ধন পুর্ণাঙ্গরূপ পেলেই সকল সমস্যার সমাধান আসবে।ইতিমধ্যে আমাদের মধ্যনগরের কৃতিসন্তান ডা.বিধান রনজন রায় পোদ্দার অর্ন্তবর্তী কালীন সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা হিসেবে স্থান পেয়েছেন।তিনির সঙ্গে অবকাঠামোর বিষয়ে কথা বলেছি।এবং এসকল সমস্যার সমাধান চেয়ে বিস্তারিত কথা বলবো।

এবিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন মধ্যনগরের বিষয়টি উর্ধ্বতনের সাথে কথা বলে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর