অবহেলিত সম্ভাবনার স্বপ্ন দুয়ার ‘মেড ইন জিনজিরা’
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১২:৪৮ PM

অবহেলিত সম্ভাবনার স্বপ্ন দুয়ার ‘মেড ইন জিনজিরা’

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮/০৫/২০২৪ ০৯:২০:৪৩ AM

অবহেলিত সম্ভাবনার স্বপ্ন দুয়ার ‘মেড ইন জিনজিরা’


‘মেড ইন জিনজিরা’ খ্যাত প্রায় আড়াইশ বছরের পুরানো বাণিজ্যিক এলাকা এখনও পড়ে আছে অবহেলায়। এই এলাকায় গড়ে ওঠা এক সহস্রাধিক হালকা প্রকৌশল শিল্পের কারখানার মাধ্যমেই পূরণ হতে পারে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতে পারে মেড ইন বাংলাদেশ নামে বাহারী পণ্য।

অথচ অভাব আর দৈন্যতায় বছরের পর বছর কাটছে এই এলাকায় কর্মরত লক্ষাধিক শ্রমিকের পরিবার। দেশের অপার সম্ভাবনার হাতছানি থাকলেও কোনো অদৃশ্য কারণে এই অঞ্চলে পড়ছে না উন্নয়নের ছোয়া।

সরেজমিনে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকায় অনুসন্ধানে পাওয়া যায় অবহেলিত এসব মানুষদের কাছে থাকা সম্ভাবনার এক স্বপ্ন দুয়ারের প্রতিচ্ছবি।

জিনজিরার তাওয়া পট্টিসহ কয়েকটি এলাকায় মেড ইন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি ভাসছে। তবে এই এলাকা থেকেই তৈরিকৃত পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের নামে। এমনটাই তথ্য দিচ্ছেন এই অঞ্চলের শ্রমিক ও কারিগররা। এই এলাকায় কর্মরত প্রতিটি শ্রমিকই একেকজন কারিগর। যেকোন জিনিস একবার দেখলেই এখানকার কারিগররা তা বানিয়ে ফেলতে পারেন মুহূর্তের মধ্যেই। মানুষের প্রয়োজনীয় এমন কোনো জিনিস নেই যা এখানে তৈরি হয় না।

কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার তাওয়াপট্টি, টিনপট্টি, আগানগর, বাঁশপট্টি, কাঠপট্টি, থানাঘাট, ফেরিঘাট এলাকায় বাসাবাড়িও দোকান-কারখানা ভাড়া নিয়ে প্রায় দুই হাজার ক্ষুদ্র ও হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প গড়ে উঠেছে।

বিখ্যাত বিভিন্ন কোম্পানির মালামাল এই এলাকাগুলোতে তৈরি হচ্ছে পড়াশুনা না জানা কারিগরদের জাদুকরী হাতের ছোঁয়ায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও তারা এই দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের ভূমিকাই পালন করে আসছেন।

তাওয়া পট্টির মনোয়ারা প্লাজা মার্কেটের হাজি নিজাম উদ্দিনের কারখানায় কর্মরত নজরুল ইসলাম লিটন বলেন, মানুষের যা যা প্রয়োজন তার সব কিছুই এই এলাকায় তৈরি হয়। এখানকার কারিগররা এমন কোন মালামাল নাই যা তৈরি করতে পারেন না।

বিভিন্ন কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারছেন না। পাচ্ছেন না সরকারের কোনো সুযোগ সুবিধাও। কেউ কেউ জমি বন্ধক রেখে ঋণ নিয়ে চালাচ্ছেন তাদের ব্যবসা। আবার অনেকেই ধারদেনা ও সুদের ওপর টাকা এনে টিকিয়ে রেখেছে এই এলাকার হালকা প্রকৌশল শিল্প। অধিকাংশ ক্ষুদ ব্যবসায়ী বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন প্রথার মতো টাকা নিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছেন। বিনিময়ে স্বল্প মূল্যেই তাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। দিনশেষে তারাও বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যায্য মূল্য থেকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জিনজিরার তাওয়াপট্টিতে ছোট-বড় প্রায় এক হাজার হালকা শিল্প-কারখানা রয়েছে। এখানে পাতিল, কড়াই, কেলাম, শিট, নাট-বল্টু, স্ক্রু, তারকাঁটা, গ্রিল, বালতি, জিআই তার, আলতালা, হ্যাসবোল্ট, কব্জা, কুড়াল, কোদাল, লোহার জানালা, দরজা, বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ডেকোরেটর সরঞ্জাম, ওয়াশিং টব, পিতলের বার্নার (কেরোসিন চুলা), কলসি, তামার হাঁড়ি, পিতলের হাঁড়ি, অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি, ক্রোকারিজ, তাওয়া, টিফিন ক্যারিয়ার, নিক্তিকাঁটা, শাটার, কেঁচি গেট, অ্যালুমিনিয়ামের জগ, মগ, লোহার সামগ্রী ছাড়াও মেলামাইন, আলকাতরা, নারিকেল তেল, শাড়ি, লুঙ্গি, বটি, দা ও ধারালো লোহার পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও টিনপট্টিতে তৈরি হচ্ছে লোহার বিভিন্ন শিট, ঢেউটিন, শিট, কয়েলসহ বাহাড়ি পণ্য। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশও তৈরি করছেন এখানকার কারিগররা।

এখানকার ইঞ্জিনিয়ার বা কারিগররা বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে থাকলেও অনেক পণ্যে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে চীন জাপানসহ নামি-দামি কোম্পানির সিলমোহরও।

যন্ত্র কৌশল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থের অভাবে এই এলাকার শিল্পের মান উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। এখানকার শিল্পের আধুনিকায়ন করা গেলে প্রচুর রপ্তানি আয় করা সম্ভব।

হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জিনজিরা এলাকায় সফলভাবে তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প সংস্থার এক তথ্যে জানা গেছে, বিভিন্ন জেলায় প্রায় এক হাজারের মতো কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই এসব কাজে দক্ষতা অর্জন করেছে জিনজিরার কারিগর খ্যাত ইঞ্জিনিয়াররা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৃথিবীর যে কোনো পণ্য বা যন্ত্রাংশ একবার দেখলেই তা জিনজিরার কারিগরখ্যাত ইঞ্জিনিয়াররা হুবহু বানিয়ে দিতে পারেন। ভারত, চীন বা জাপানের উৎপাদিত বেশির ভাগ পণ্যের চেয়ে এই অঞ্চলের তৈরিকৃত পণ্যের দাম কম এবং মানও অনেক উন্নত বলে দাবি করছেন এখানকার ব্যবসায়ী, কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা।

তাওয়া পট্টিতে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন অজিত কর্মকার। তিনি লোহা গলিয়ে দা, বটি ছুরি- এ জাতীয় ধারালো পণ্য তৈরি করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের পথে। প্রতিদিন সেখানে চারজন শ্রমিক কাজ করছেন।

পরিবারের স্ত্রী ও দুই ছেলে দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলে মেয়েরা পড়াশুনা করছে। বংশপরম্পরাই তারা কর্মকারের (কামার) পেশায় নিয়োজিত। অজিত কর্মকার বলেন, আমার বাপ দাদারাও কর্মকার আছিলো। তয় আমিই এই পেশায় শেষ ব্যক্তি। আমার সন্তানগো এই পেশায় নামাই নাই। কারণ এই পেশায় কোনো ভবিষ্যত ভালো দেহি না। যা কামাই করি তা কর্মচারীগো বেতন, দোকান ভাড়া দিয়াই শেষ হইয়া যায়। সব জিনিষের দাম বাড়ে খালি আমাগো দামই বাড়ে না।

পরিত্যাক্ত জিনিসপত্র দিয়ে রকমারি পণ্য তৈরিকারক ইমরান বলেন, আমরা বিভিন্ন ছোট ছোট দোকান থেকে পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস কিনে আনি। এছাড়াও টোকাইরা আমাদের এখানে প্লাশটিকে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে। এগুলা প্রথমে আমরা পরিষ্কার করে মেশিনের সাহায্যে কাটি এবং গুঁড়া করি। এরপর ডাইজ মেশিনের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের বালতি, থালা তৈরি করি।

লোহা, স্টিলের প্লেনসিট কেটে বিভিন্ন ধরনের ওয়াশার তৈরি কারক রবিন বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি পাঁচ-ছয়শ টাকায় যে ওয়াশার বিক্রি করে তা আমি প্লেনসিট কেটে তৈরি করছি। এতে আমার খরচ পরছে মাত্র ৪০-৫০ টাকা। কিন্তু এগুলো খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সরকার যদি আমাদের বৈধতা দিত তাহলে আমি এইগুলা অল্পদামে সব জায়গায় সরবরাহ করতে পারি। আর যদি আমার এই ব্যবসায় আর্থিক সহায়তা করতো তাহলে ব্যবসার পরিধিও বাড়াতে পারতাম।

জিনজিরা এলাকার কারিগরদের কাছে কোন কিছুই এখন আর ফেলনা নয়। ফেলে দেওয়া ভাঙা হাঁড়ি থেকে শুরু করে ছেঁড়া জুতা, ডাস্টবিনে পড়ে থাকা প্লাস্টিক বোতল, পাইপ, ভাঙা জগ, বালতি, গামলাসহ বিভিন্ন পণ্য এখন এই এলাকার কারিগরদের কাছে নিত্য নতুন পণ্য তৈরির কাঁচামাল।

আশপাশে অহরহ পড়ে থাকা পরিত্যক্ত 'কাঁচামাল' দিয়েই জিনজিরার কারখানাগুলোতে শতভাগ দেশীয় পণ্য তৈরি করে তা বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে বলেও তথ্য রয়েছে।

জিনজিরার বেশ কিছু বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে উচ্ছিষ্ট-পরিত্যক্ত উপকরণ নির্ভর বেশ কয়টি ক্ষুদ্র কারখানা গড়ে উঠেছে। এ সব কারখানায় ড্রেন-ডাস্টবিন ও রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন যায়গা থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিকজাতীয় অব্যবহৃত পরিত্যক্ত পণ্য দ্রব্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের কাটিং মেশিনে কেটে কুচি কুচি করা হয়। এরপর তা ক্যাসিং মেশিনে উচ্চ তাপমাত্রায় গলিয়ে রং ও রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে তৈরি হয় 'দানা'। এই প্লাস্টিক দানা বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রী তৈরির কাঁচামাল হিসেবে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

এছাড়াও অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশের সাহায্যে লোহা, স্টিলসহ অন্যান্য ধাতবখণ্ড গলিয়ে বানানো হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি হাঁড়ি-পাতিল, কড়াইসহ নানা পণ্য। তামা থেকে বানানো হচ্ছে বৈদ্যুতিক তার।

কেরাণীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবু রিয়াদ বলেন, জিনজিরায় তৈরি পণ্যের বিষয়ে সরকার নানামুখী পরিকল্পনা করছে। এই এলাকায় অনেকগুলো পণ্য তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা সবাই ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে আমাদের কাছে তালিকা চেয়েছে। আমরা তালিকা করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। এই এলাকায় হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প থেকে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকাবাসী বলছেন, জিনজিরা কেন্দ্রিক ক্ষুদ্র কারখানাগুলো থেকে বছরে অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকার পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এই এলাকায় উৎপাদিত অনেক পণ্য বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কিছুদিন আগেও চীন, জাপান, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের যন্ত্রাংশের একচেটিয়া দখল ছিল বাংলাদেশের বাজার। তবে বর্তমানে জিনজিরার তৈরি যন্ত্রাংশ সেই স্থান পূরণ করে চলছে।

শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদন না পাওয়ার কারণে নিজেদের তৈরি মূল্যবান সব যন্ত্র-সরঞ্জামাদির গায়েও মেড ইন চীন, জাপান, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নামে সিলমোহর মেরে তা বাজারজাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে করে এই কারিগরদের নিজস্ব তৈরি পণ্য নকল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

সরকারের সহায়তা পেলে জিনজিরার কারিগরদের দক্ষতায় জিনজিরা হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের চীন-জাপান। আর এই কারিগরদের জাদুকরী হাতের ছোয়ায় তৈরি পণ্য মেড ইন বাংলাদেশ নামে পাড়ি জমাতে পারে বিভিন্ন রাষ্ট্রে।

বর্তমানে কেরানীগঞ্জ থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় জিনজিরাকে কেন্দ্র করে পর্যটনশিল্প থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআইর) সহ-সভাপতি মো. খায়রুল হুদা।

তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত নতুন যে রাজপথ হয়েছে সে কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন বেশ ভালো। ফলে অনেক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এফবিসিসিআই থেকে সেখানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির জন্য চিন্তাভাবনা রয়েছে। ফলে স্থানীয় কারিগরদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে দেশে দক্ষ শ্রমিকের বেশ সংকট থাকায় তাদের প্রশিক্ষণের জন্যও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনটির।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে দক্ষ শ্রমিকের বেশ সংকট রয়েছে। বিশেষ করে যেসব শ্রমিক বিদেশ যাচ্ছেন বা দেশে কাজ করছেন তাদের দক্ষতা বেশ কম। ফলে দক্ষ শ্রমিক তৈরির জন্যও এফবিসিসিআইয়ের হাটখোলা ভবনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়াও উত্তরায় শ্রমিকদের জন্য ট্রেনিং সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ১০ কাঠা জায়গা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চেয়েছি। আগামী বছর সেখানে ট্রেনিং সেন্টারটি করার কথা রয়েছে। সেটি তৈরি হয়ে গেলে শ্রমিকেরা প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। জিনজিরা কারিগরেরাও সেখানে ট্রেনিং নিতে চাইলে সুযোগ পাবেন।’

প্রাতিষ্ঠানিক সনদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই জিনজিরা এলাকার কারিগর বা শ্রমিকরা দক্ষতার সাথে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে আসছেন। তবে সরকারি সনদের অভাবে তাদের পণ্য নকল সিলযুক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বাজারে। আর নকল পণ্য তৈরির কারিগর হিসেবে তারা সমাজে নকলবাজের আখ্যা পাচ্ছে। বলা হচ্ছে জিনজিরা এখন নকল পণ্য তৈরির এলাকা।

তবে তাদেরও সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সনদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পিআইডব্লিউ) এ.ওয়াই.এম. জিয়াউদ্দীন আল-মামুন।

তিনি বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় অ্যাসেট নামে একটি প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। যারা আগে থেকেই কাজ জানে তাদের তিনদিনের একটি ট্রেনিং দিয়ে একটি সনদ দেওয়া হয়। এখানে জিনজিরা এলাকাসহ দেশের যেকোনো জায়গা থেকেই প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। সেখানকার শ্রমিক বা কারিগররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে সনদ নিতে পারবে। এতে কোনো বাধা নেই।

কিন্তু শুধু জিনজিরা নিয়ে আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে আমাদের এখানে তিন বা ছয় মাস মেয়াদি ট্রেনিং রয়েছে। তারা প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। এছাড়া যাদের পুরো কাজ সম্পর্কে দখল ভালো তাদের শুধু একটি সনদ প্রয়োজন; তারা চাইলে এখানে এসে তিনদিনের একটি কোর্স করে সনদ নিয়ে যেতে পারে। এই সনদ দিয়ে থাকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

জিনজিরা এলাকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পরিকল্পনা হাতে নেয়নি শ্রম অধিদপ্তর। এদিকে এই এলাকায় প্রায় ৬০ লাখ শ্রমিক প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য আটকে আছে তাদের যথাযথ মর্যাদা। জিনজিরা এলাকা কর্মরতরা শ্রমিক হয়েও তারা প্রত্যেকেই একেকজন কারিগর। তাদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পণ্য। দেশের গন্ডি পেরিয়ে এই সকল পণ্য বিভিন্ন নামে বেনামে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য তৈরি করছে এখানকার কারিগরখ্যাত শ্রমিকরা।

জিনজিরার শিল্প ও শ্রমিকদের নিয়ে শ্রম অধিদপ্তরের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও পরিসংখ্যান বিভাগের পরিচালক সালাহউদ্দীন মাহমুদ বলেন, কেরানীগঞ্জের জিনজিরাকে উদ্দেশ্য করে কোনো ধরনের কর্ম পরিকল্পনা বর্তমানে রয়েছে বলে আমার জানা নেই।

অনেকেই বলছেন, জিনজিরাকে নিয়ে শ্রম অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে কোনো কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি।

আজকের সিলেট/ডিটি/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর