টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে অব্যাহত বর্ষণের প্রভাবে সিলেট বিভাগের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যার শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে সাময়িকভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময়ে অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৯টায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ, যা সন্ধ্যা ৬টায় কমে ৮৩ শতাংশে দাঁড়ায়।
গত ১৮ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১৯ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ১৯ জুলাই সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরও ৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৫৭ মিটার, যা বিপদসীমার (১৫.৮০ মিটার) প্রায় ১ দশমিক ২৩ মিটার নিচে। শেওলা পয়েন্টে পানি রয়েছে ১২ দশমিক ২০ মিটার, যা বিপদসীমার (১৩.০৫ মিটার) ৮৫ সেন্টিমিটার নিচে।
অন্যদিকে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ০৯ মিটার, যা বিপদসীমার (১২.৭৫ মিটার) ৬৬ সেন্টিমিটার নিচে। সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি ৯ দশমিক ৭৫ মিটার, যা বিপদসীমার (১০.৮০ মিটার) ১ দশমিক ৫ মিটার নিচে রয়েছে।
এছাড়া সারি নদীর সারিঘাট, পিয়াইন নদীর জাফলং, গোয়াইন নদীর গোয়াইনঘাট, লোভাছড়া নদী ও ধলাই নদীর ইসলামপুর পয়েন্টেও পানি স্বাভাবিক ওঠানামা করছে এবং কোথাও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।
তবে আবহাওয়া অফিসের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস এবং উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সিলেট বিভাগের নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি









